দিল্লিতে বড় সিদ্ধান্ত! বন্ধ হলো ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরের দিন, আর কোথায় বিক্ষোভ করা যাবে জানেন?

জাতীয় রাজধানী দিল্লির রাজপথ এবং বিক্ষোভ সংস্কৃতির ইতিহাস বদলে গেল বড় এক পদক্ষেপে। দীর্ঘ বহু দশক ধরে যে যন্তর মন্তর ছিল আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র, সোমবার দিল্লি পুলিশের নির্দেশে সেখান থেকে প্রতিবাদ ও ধর্না প্রদর্শনের স্থান হিসেবে নির্ধারিত তকমা প্রত্যাহার (De-notify) করা হয়েছে। পরিবর্তে শহর জুড়ে বিকল্প তিনটি বড় ময়দানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রতিবাদস্থল ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
এমন এক সময়ে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যখন রাজনৈতিক দল ‘কাকরোজ জনতা পার্টি’ (CJP) বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিরাট প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে পুলিশের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সংসদের একদম কাছাকাছি দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ প্রদর্শনের দীর্ঘদিনের অধিকারের ওপর বড় প্রভাব পড়তে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
দিল্লির নতুন ৩টি প্রতিবাদস্থল এবং তাদের ধারনক্ষমতা:দিল্লি পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আন্দোলন বা জনসভার জন্য যে নতুন তিনটি স্থানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলির বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. বুড়ারি গ্রাউন্ড (Burari Ground):উত্তর দিল্লিতে অবস্থিত দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (DDA)-র মালিকানাধীন এই বুড়ারি গ্রাউন্ড প্রায় ৫০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এখানে একসাথে প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১ লাখ মানুষ একত্রিত হতে পারেন। দিল্লি-চণ্ডীগড় হাইওয়ের পাশে জাহাঙ্গীরপুরী ও তিমারপুরের কাছে অবস্থিত এই মাঠে বিশাল রাজনৈতিক র্যালি ও ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজন করা সম্ভব।
২. রামলীলা ময়দান (Ramlila Maidan):মধ্য দিল্লিতে অবস্থিত প্রায় ১২ একর আয়তনের এই ঐতিহ্যবাহী ময়দানটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক সাক্ষী। সংসদ ভবন থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মাঠে একসাথে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ জমায়েত হতে পারেন। অতীতে জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধীর মতো মহীরুহদের সমাবেশ থেকে শুরু করে ২০১১ সালে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির উত্থানের একাধিক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী এই রামলীলা ময়দান।
৩. সিবিডি গ্রাউন্ড (CBD Ground):পূর্ব দিল্লির শাহদারা জেলায় অবস্থিত এই সিবিডি গ্রাউন্ডটি ডিডিএ (DDA)-র অধীনস্থ এবং এটি প্রায় ১২ একর জুড়ে বিস্তৃত। আনন্দ বিহার ও বিশ্বাসের মতো বাণিজ্যিক এবং আবাসিক এলাকার মাঝে অবস্থিত এই ময়দানে একসাথে ১৫,০০০ মানুষের সমাবেশ করা সম্ভব। সাধারণত রামলীলা অনুষ্ঠান, বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান এবং ছোট আকারের রাজনৈতিক জমায়েত পরিচালনা করতেই এটি ব্যবহার করা হয়।আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু সংসদের কোল থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ায় রাজনৈতিক শিবির এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে এই নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।