জাঙ্ক ফুড খাওয়া ঘোচাতে মেয়ের পেটে ‘কৃমি’ দেখানোর নাটক! বাবার এই মারাত্মক বুদ্ধি দেখে হতবাক নেটদুনিয়া!

শিশুদের মুখরোচক অস্বাস্থ্যকর খাবার বা ‘জাঙ্ক ফুড’ (Junk Food) থেকে দূরে রাখা যে কোনো অভিভাবকের কাছেই এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সেই বদঅভ্যাস ছাড়াতে গিয়ে এক বাবা যে কাণ্ড ঘটালেন, তা দেখে চোখ কপালে উঠেছে সমাজমাধ্যমের একাংশের। কেউ একে সন্তানের স্বাস্থ্য সচেতনতায় বাবার এক অভিনব কৌশল বলে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, তো আবার কারও চোখে এটি একেবারেই অনুচিত এবং শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর এক ভয়ের নাটক।

অর্চনা সিং নামের এক ব্যবহারকারীর ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে শেয়ার হওয়া একটি ভিডিওতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, এক বাবা তাঁর মেয়ের পেটের ওপর ল্যাপটপের সঙ্গে যুক্ত একটি মাউসকে আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যানারের মতো বোলাচ্ছেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তে ল্যাপটপের পর্দায় ফুটে উঠছে কৃমির মতো নড়াচড়া করা কিছু পোকার দৃশ্য! বাবার বার্তা ছিল একেবারে স্পষ্ট— অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ফলেই নাকি মেয়ের পেটে এভাবে বাসা বেঁধেছে কৃমি। পর্দার সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়ে ছোট্ট মেয়েটি। দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে সে এবং ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে প্রতিজ্ঞা করে যে, আর কোনোদিন বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার সে মুখে তুলবে না। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, বাবার এই ‘নকল আল্ট্রাসাউন্ড’-এর কেরামতিতেই নাকি মেয়ের জাঙ্ক ফুডের নেশা এক নিমেষে উধাও হয়ে গেছে।

নেটদুনিয়ায় শুরু তীব্র বিতর্ক:
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। নেটিজেনদের একাংশের মতে, আজকের দিনে শিশুরা যখন মুখের কথা একেবারেই শুনতে চায় না, তখন একটু কায়দা করে বা ভয় দেখিয়ে তাদের ভালো অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে আনা খুব একটা অন্যায় নয়। অনেকে আবার নিজেদের বাড়িতেও এমন কৌশল প্রয়োগ করার কথা ভাবছেন বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে এর বিপরীতে সমালোচকদের সুরও বেশ চড়া। বহু নেটিজেন বাবার এই কাজের তীব্র বিরোধিতা করে প্রশ্ন তুলেছেন, ভালো অভ্যাস তৈরি করতে গিয়ে একটি শিশুকে এভাবে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করা কতটা যুক্তিযুক্ত? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভয় দেখিয়ে কোনো অভ্যাস সাময়িকভাবে বন্ধ করানো গেলেও, তা শিশুর কোমল মনে দীর্ঘমেয়াদি ট্রমা বা মানসিক আঘাতের সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া মা-বাবা নিজেরা যদি শিশুদের সঙ্গে এমন বিশ্বাসভঙ্গ ও মিথ্যার আশ্রয় নেন, তবে ভবিষ্যতে সেই শিশুরা কীভাবে সত্যবাদী হওয়া শিখবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ওয়াকিবহাল মহল। সব মিলিয়ে, মেয়ের ভালো চাইতে গিয়ে বাবার এই কড়া ও অভিনব পদ্ধতি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক গভীর অভিভাবকত্ব-বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *