“হঠাৎ এত টাকা কোথায় পাচ্ছেন অভিজিৎ-সৌরবরা?” CJP নেতাদের ফান্ডিং প্রশ্ন তুললেন হরিশ সালভে!

ভারতের বর্তমান আন্দোলন ও অস্থিরতার নেপথ্যে বহিরাগত শক্তির ইন্ধন এবং বিদেশি তহবিলের জোরালো যোগ রয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন দেশের প্রবীণ আইনজীবী তথা প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেল হরিশ সালভে। সম্প্রতি লন্ডনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্ত করার জন্য বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশি অর্থ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব
লন্ডনের ওই মঞ্চ থেকে হরিশ সালভে সরাসরি অভিযোগ করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি শক্তি ভারতের বর্তমান সরকারকে হটিয়ে নিজেদের পছন্দের সরকার কায়েম করতে চাইছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং অস্থিতিশীলতার নেপথ্যেও বিদেশি শক্তির মদত ছিল। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, ঠিক একই কায়দায় এখন ভারতেও পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসঙ্গ টেনে সালভে জানান, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) আলোচনা চললেও আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা বর্তমানে একটি বিশেষ স্তরে এসে আটকে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের শক্তিশালী অবস্থান ও স্বাধীন নীতি কিছু বিদেশি শক্তিকে অসন্তুষ্ট করে তুলতে পারে বলেও তাঁর ধারণা। তবে এই বিদেশি অর্থ বা চক্রান্তের সপক্ষে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো দস্তাবেজ বা প্রমাণ প্রকাশ্যে এনেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
CJP নেতা অভিজিৎ-সৌরভদের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের সাম্প্রতিক আন্দোলন এবং ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র কার্যকলাপ নিয়েও তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রবীণ এই আইনজীবী। CJP নেতা অভিজিৎ দিপকে এবং সৌরভ দাসের প্রসঙ্গ টেনে সালভে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, রাতারাতি কীভাবে তাঁরা রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেন এবং তাঁদের এই রাজনৈতিক কর্মসূচির পিছনে এত টাকা কোত্থেকে আসছে? গত ছয় থেকে আট মাসে দেশে এক নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।
কে এই হরিশ সালভে?
হরিশ সালভে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং প্রভাবশালী প্রবীণ আইনজীবী। ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের সলিসিটর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) কুলভূষণ যাদব মামলা এবং ভোডাফোনের জটিল কর বিতর্কের মতো হাই-প্রোফাইল মামলায় ভারতের হয়ে সওয়াল করে তিনি দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য নতুন করে ব্যাপক রাজনৈতিক তরজার সৃষ্টি করেছে।