কে এই CEC জ্ঞানেশ কুমার? একনজরে জেনেনিন জ্ঞানেশ কুমার কতটা ‘জ্ঞানী’?

বর্তমানে ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে চর্চিত ও কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মুখ কে? এক ফ্রেমে উত্তর একটাই—দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘SIR’ প্রক্রিয়া ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক, বিরোধীদের পদত্যাগের দাবি এবং অন্যদিকে শাসক দলের জোরালো সমর্থনের জেরে তিনি এখন শিরোনামের শীর্ষে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই আইএএস অফিসারের ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কেরিয়ারের অবিশ্বাস্য উত্থানের জার্নিটা ঠিক কেমন? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

উত্তরপ্রদেশের মেধাবী ছাত্র থেকে আইআইটি কানপুরের ইঞ্জিনিয়ার

১৯৬৪ সালে উত্তরপ্রদেশে জন্ম জ্ঞানেশ কুমারের। গোরক্ষপুর, লখনউ এবং কানপুরে তাঁর শৈশব ও শিক্ষাজীবন কেটেছে। ১৯৭৯ সালে হাইস্কুল এবং ১৯৮১ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তরপ্রদেশ বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করে নিজের মেধার জানান দিয়েছিলেন তিনি।

এরপর লখনউয়ের গণ্ডী পেরিয়ে সোজা কানপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT)-তে সুযোগ পান জ্ঞানেশ। সেখান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক (B.Tech) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি আইসিএফএআই (ICFAAI) থেকে বিজনেস ফিনান্স এবং বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ভার্ড ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট থেকে এনভায়রনমেন্টাল ইকোনমিক্স নিয়েও উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন তিনি। সম্প্রতি ২০২৫ সালের নভেম্বরে আইআইটি কানপুরের ৬৬তম প্রতিষ্ঠা দিবসে তাঁকে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাপূর্ণ ‘ডিস্টিংগুইশড অ্যালুমনাই অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করা হয়।

১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস থেকে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষপদে

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাট চুকিয়ে ১৯৮৫ সাল থেকেই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন জ্ঞানেশ কুমার। ১৯৮৮ ব্যাচের এই আইএএস অফিসার কেরল ক্যাডার বেছে নেন। কেরলে কর্মরত থাকাকালীন তিনি কোচিন কর্পোরেশনের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার, কেরল স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের এমডি, এরনাকুলামের জেলাশাসক এবং নয়াদিল্লিতে কেরল হাউসের রেসিডেন্ট কমিশনারের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান।

কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব থাকাকালীন জম্মু ও কাশ্মীর এবং অযোধ্যা সংক্রান্ত একাধিক ঐতিহাসিক ও স্পর্শকাতর ঘটনার নেপথ্যে প্রশাসনিক স্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন জ্ঞানেশ কুমার।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সিইসি হিসেবে দায়িত্ব

দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ তাঁকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয় এবং ওই বছরের লোকসভা নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

অবশেষে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জ্ঞানেশ কুমার। তবে তাঁর কার্যকালের এই বিশেষ সময়েই দেশজুড়ে SIR প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে নজিরবিহীন রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা তাঁর ইস্তফা দাবি করে রাজধানীর রাজনীতি উত্তপ্ত করে তুললেও, প্রশাসনিক শৃঙ্খলার কড়া জাঁতাকলে গড়ে ওঠা জ্ঞানেশ কুমারের এই জার্নি নিঃসন্দেহে বর্তমান ভারতের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *