কলকাতা বন্দরের চাপ কমাতে হুগলিতে মেগা ধামাকা! ৫৩৯ কোটির প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে বলাগড়ের ভাগ্য?

কলকাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের ওপর প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণের চাপ কমাতে এবার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। হুগলির বলাগড়ের শ্রীপুর চরে গড়ে উঠতে চলেছে এক অত্যাধুনিক ‘মিনি বন্দর’। দীর্ঘ ২৫ বছরের জট কাটিয়ে অবশেষে ৫৩৯ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের হাত ধরে গোটা এলাকার অর্থনৈতিক মানচিত্র আমূল বদলে যেতে চলেছে। সোমবার দেবীপক্ষে এই প্রকল্পের রাস্তা ও ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়।

১৯৯৬ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সিইএসসি (CESC)-র তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার লক্ষ্যে কৃষকদের থেকে জমি নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক কাজ হিসেবে রাস্তা ও সেতু তৈরি হলেও ২০০০ সালের বিধ্বংসী বন্যায় তা কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এবং প্রকল্পটি বাতিল হয়ে পড়ে থাকে। সেই পরিত্যক্ত জমিতেই এবার গড়ে উঠছে জলপথ বাণিজ্যের নয়া করিডোর। শ্রীপুর চরের ভৌগোলিক অবস্থান প্রাকৃতিকভাবেই বন্দরের উপযোগী—যেখানে গঙ্গা থেকে একটি অর্ধচন্দ্রাকৃতি খাঁড়ি পূর্ব থেকে পশ্চিমে গিয়ে ফের মূল নদীতে মিশেছে।

প্রকল্পের প্রধান খুঁটিনাটি:

  • বিনিয়োগ ও এলাকা: প্রায় ৯০০ একর জমির উপর গড়ে উঠছে এই মিনি বন্দর, যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৩৯ কোটি টাকা।

  • সময়সীমা: আগামী ২ বছরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

  • যোগাযোগ ব্যবস্থা: শুধু জলপথ নয়, বন্দরের সার্বিক সুবিধার্থে উন্নত সড়ক ও রেল যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। থাকবে আধুনিক ব্রিজ ও সংযোগকারী রাস্তা।

  • বার্ষিক ক্ষমতা: প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বন্দরের প্রাথমিক কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা হবে বিপুল, যা সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের বাণিজ্যে গতি আনবে।

বলাগড় মূলত একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। ফলে এই মেগা বন্দর বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় যুবকদের জন্য ব্যাপক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের দরজা খুলে যাবে। পাশাপাশি বন্দর নির্মাণের জন্য গঙ্গার তীরবর্তী প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা সংহত করার ফলে বলাগড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা—মারাত্মক নদীভাঙনও অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল। সব মিলিয়ে, ২৫ বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে এই মিনি বন্দর ঘিরে এখন দিনবদলের নতুন স্বপ্নে ভাসছে গোটা হুগলি জেলা।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *