“২০০ অফিসার আমাকে গোপন তথ্য দিচ্ছেন!” মোদী সরকারের অন্দরে সিধেল চুরির দাবি রাহুলের, সিইসি-কে সরকারি সাক্ষী হওয়ার নজিরবিহীন বার্তা

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া এবং কথিত ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এবার নজিরবিহীন এক রাজনৈতিক পারমাণবিক বোমা ফাটালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী দলগুলির মঞ্চ থেকে তিনি এক বিস্ফোরক দাবি করে জানিয়েছেন, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা প্রায় ২০০ জন শীর্ষ সরকারি আধিকারিক বিরোধী শিবিরকে সরকারের অভ্যন্তরীণ সব গোপন তথ্য নিয়মিত সরবরাহ করছেন। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে এই গোটা প্রক্রিয়ায় ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হওয়ার বেনজির ডাক দিয়েছেন তিনি।

সোমবার জাতীয় রাজধানীতে বিরোধীদের যৌথ আন্দোলনের মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে একের পর এক তির ছোঁড়েন। নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি কেন্দ্রের অঙ্গুলিহেলনে চলা প্রতিষ্ঠান বলে আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সুরক্ষায় ভেতর থেকেই বহু সৎ আমলা ও অফিসার এখন ক্ষুব্ধ।

রাহুলের বক্তব্যের মূল তিনটি চাঞ্চল্যকর দিক:

  • ২০০ অফিসারের গোপন তথ্য সরবরাহ: রাহুলের স্পষ্ট দাবি, “নরেন্দ্র মোদীর চোখের সামনে থাকা ২০০ জন শীর্ষ সরকারি অফিসার আমাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সরকারের ভেতর কোন কোন ফাইলে কী চলছে, কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে—প্রতিটি মুহূর্তের খবর আমাদের টেবিলে পৌঁছাচ্ছে। তাঁদের এই সহযোগিতার জন্য আমি প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

  • জ্ঞানেশ কুমারকে সরকারি সাক্ষী হওয়ার আহ্বান: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তিনি বলেন, কমিশনের নিরপেক্ষতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ইতিহাস তাঁকে কীভাবে মনে রাখবে তা ভেবেই তাঁর উচিত অবিলম্বে পদত্যাগ করা এবং পুরো চক্রের বিরুদ্ধে আদালতে ‘অ্যাপ্রুভার’ হয়ে সমস্ত সত্য ফাঁস করে দেওয়া।

  • সংবিধান ও ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই: রাহুল স্মরণ করিয়ে দেন, এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য নয়; বরং দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের সাংবিধানিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র। তাই এই আন্দোলন রাজপথ থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।

বিরোধীদের মহামিছিল সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে রওনা হওয়ার ঠিক আগে রাহুল গান্ধীর এহেন মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো সুনামি তৈরি করেছে। প্রশাসনের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে বিরোধী দলনেতার এমন দাবি সরকারের অন্দরে চরম অস্বস্তি তৈরি করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। অন্যদিক, শাসকদল বিজেপি বিরোধীদের এই দাবিকে পুরোপুরি রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ও ভিত্তিহীন প্রলাপ বলে কটাক্ষ করেছে। সব মিলিয়ে, রাজধানীর রাজপথ থেকে শাসনযন্ত্রের অলিন্দ—রাহুল গান্ধীর এই বিস্ফোরক বয়ানে উত্তাপ চরমে উঠেছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *