“এভাবে চললে এক সিজনেই ২ হাজার রান হবে!” রঞ্জির মান নিয়ে কেন চরম ক্ষুব্ধ সানি? ফাঁস বোর্ডের গাফিলতি

ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া টুর্নামেন্ট রঞ্জি ট্রফির গুরুত্ব খাটো করা এবং অদ্ভুত ম্যাচ সূচি নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর। রবিবার থেকে শুরু হয়েছে দেশের প্রধান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্রতিযোগিতা রঞ্জি ট্রফি। কিন্তু সেই একই সময়ে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ভারত ‘এ’ দলের সিরিজ রাখা এবং পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ড সফরের কারণে রঞ্জি থেকে ছিটকে গিয়েছেন একাধিক প্রথম সারির তারকা। বোর্ডের এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে গাভাসকর স্পষ্ট দাবি করেছেন—‘এ’ দলের সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তার বলি কোনোভাবেই রঞ্জি ট্রফি হতে পারে না।
সূত্রের খবর, ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে নিজ নিজ রাজ্য দলের হয়ে প্রথম পর্বের রঞ্জি ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, রজত পাতিদার ও দেবদত্ত পাডিক্কালের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটাররা। চলতি মাসের শেষদিকে নিউজিল্যান্ড সফরে ‘এ’ দলের তিনটি বেসরকারি টেস্ট খেলতে যাওয়ার কথা থাকায় রঞ্জির পরবর্তী রাউন্ডগুলিতেও অনেক তারকাকে পাবে না তাঁদের রাজ্য দল।
নিজের নিয়মিত কলামে এই সূচি-সংঘাত নিয়ে বিসিসিআই-কে তুলোধনা করে সানি লিখেছেন:
-
দুর্বল প্রতিপক্ষ ও অসার রেকর্ড: তারকা ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটাররা না খেললে টুর্নামেন্টের গুণমান তলানিতে পৌঁছায়। গাভাসকরের শ্লেষাত্মক মন্তব্য, “প্রতিযোগিতা এভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে কোনও ব্যাটার এক মরসুমে ২ হাজার রান আর কোনও বোলার ১০০ উইকেট তুলে নিলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।”
-
এলিট বনাম প্লেট ডিভিশনের ফারাক: লোঢা কমিশনের সুপারিশে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে রঞ্জিতে ঢোকানোর ফলে সামগ্রিক মান নেমে গিয়েছে। প্লেট ডিভিশনের দুর্বল দলগুলির বিরুদ্ধে রান বা উইকেট তুলে যে রেকর্ড তৈরি হচ্ছে, তা এলিট ডিভিশনের সমমানের নয়। ফলে সেই পারফরম্যান্স দেখে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখ থুবড়ে পড়ছেন।
-
সিনিয়রদের অনুপস্থিতি: জাতীয় দলের নিয়মিত ক্রিকেটাররা লাল বলের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন না বললেই চলে। তার ওপর ‘এ’ দলের সূচিও রঞ্জির ঘাড়ে চাপিয়ে দিলে তরুণ প্রতিভাদের আসল ক্ষমতা যাচাই করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
লিটল মাস্টারের এই কড়া বার্তা ঘরোয়া ক্রিকেটের মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। বহু বিশেষজ্ঞই একমত যে, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মূল ভিত্তি যদি রঞ্জি ট্রফিই হয়, তবে এমনভাবে ক্যালেন্ডার তৈরি করা উচিত যাতে ভারতের সেরা প্রতিভারা নিজের রাজ্য দলের হয়ে সর্বোচ্চ মানের ক্রিকেটে মুখোমুখি হতে পারেন। বোর্ডের এমন অপরিকল্পিত সূচি রঞ্জি ট্রফির ঐতিহ্যকেই কালিমালিপ্ত করছে বলে সোচ্চার হয়েছেন গাভাসকর।