খনির লিজ নিয়ে রণক্ষেত্র রাজস্থান! গ্রামবাসীদের হামলায় প্রাণ হারালেন প্রাক্তন বিধায়ক, চরম উত্তেজনা

রাজস্থানের ভরতপুর জেলায় খনি ও ক্রাশার প্ল্যান্টের লিজ এবং রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের জমি বিবাদ শেষ পর্যন্ত নিল এক নির্মম ও রক্তক্ষয়ী রূপ। রবিবার সন্ধ্যায় গ্রামবাসীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে প্রাণ হারালেন প্রাক্তন বিধায়ক অতার সিং ভাদানা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর জয়পুরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় তাঁর দেহরক্ষী গগন শর্মাও মারাত্মকভাবে জখম হয়ে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৈর থানা এলাকার ভৌন্ডা ও রায়পুর গ্রামে চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

চার বছরের পুরনো বিবাদ এবং রবিবারের সংঘর্ষ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভৌন্ডা ও রায়পুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে স্থানীয় খনি ও ক্রাশার প্ল্যান্টের মালিকপক্ষের বিবাদ নতুন নয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, চারণভূমি দখল করে বেআইনিভাবে খননকাজ চলছিল এবং যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। প্রায় চার বছর আগে শুরু হওয়া এই বিবাদ নিয়ে গত দুই বছর ধরে গ্রামে থেমে থেমে ক্ষোভ জমা হচ্ছিল।

অভিযোগ, বন্ধ থাকা ওই ক্রাশার প্ল্যান্টটি গত এক বছর পর রবিবার আবার নতুন করে চালুর চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিকেল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার দিকে প্রাক্তন বিধায়ক অতার সিং ভাদানা নিজস্ব লোকবল নিয়ে প্ল্যান্টে পৌঁছলে বিবাদ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রামবাসীদের দাবি, ভাদানার পক্ষে আসা ৪০-৫০ জন লোক প্রথমে তাঁদের প্রতিবাদস্থল থেকে জোড়জুলুম করে সরাতে গেলে হাতাহাতি শুরু হয়। এর পরেই ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল ক্রাশার প্ল্যান্টে চড়াও হয়ে লাঠি, সোঁটা ও পাথর নিয়ে তাণ্ডব চালায়। দুই পক্ষের চরম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত হয়ে পড়েন প্রাক্তন বিধায়ক এবং তাঁর নিরাপত্তা রক্ষী।

চলল গুলি? তুঙ্গে বিতর্ক ও ক্ষোভ
প্রাক্তন বিধায়কের স্ত্রী কমলেশ ভাদানা গুরুতর অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন যে, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর স্বামীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ভাইরা মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাত ৮টা ১৫ মিনিটে অতার সিংকে হাসপাতালে আনা হলে তাঁদের গায়ে গুলির আঘাতের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন মেলেনি। যদিও পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) ধীরেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, ঘটনার সময়ে প্ল্যান্টে ২০-২৫ জন কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। বিবাদের আসল শিকড় খুঁজতে পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *