“ফেলুদা লগ্নে জন্ম হলেও কস্মিনকালেও ভাবেনি!” টোটাকে শরৎচন্দ্র করার গোপন গল্প ফাঁস করলেন সৃজিত!

চলতি বছরটা কাজের মধ্যে দিয়েই চরম ব্যস্ততায় কাটছে টলিউডের অন্যতম হেভিওয়েট পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের। সম্প্রতি তাঁর পরিচালিত ছবি ‘উইঙ্কেল টুইঙ্কল’ মুক্তির পর দর্শকমহলে ব্যাপক সাফল্য ও প্রশংসা কুড়িয়েছে। আর সেই সাফল্যের পরেই দেরি না করে নিজের আসন্ন পুজো রিলিজ ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ (Emperor vs Sarat Chandra)-র জোরদার প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। তবে এবার শুধু পরিচালনা নয়, এই ছবিতে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ সঙ্গীত পরিচালকের ভূমিকাতেও দেখা যাবে তাঁকে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকায় টোটা রায়চৌধুরীকে কাস্ট করার নেপথ্য কাহিনী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ছবির লড়াই—এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে সমস্ত আড্ডার ঝাঁপি খুললেন পরিচালক।

‘উইঙ্কেল টুইঙ্কেল’-এর সাফল্য এবং ‘ব্যান কালচার’ বিতর্ক
পরপর দুটোই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ছবি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সৃজিত জানান, কোনো বক্তব্য বা মতকে নিষিদ্ধ বা ‘ব্যান’ করার নেপথ্যেই আসল রাজনীতি লুকিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে যেভাবে নানা বিতর্ক ও নিষিদ্ধকরণের কালচার তৈরি হয়েছিল, তাঁর আগামী ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-তেও ঠিক এমনই এক প্রতিবাদী উপন্যাস নিষিদ্ধ হওয়ার গল্প রয়েছে। একজন লেখক যখন তৎকালীন ইংরেজ সিস্টেম ওশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং তাঁর লেখা বই নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়, তার থেকে বড় রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক উচ্চারণ আর কী-ই বা হতে পারে!

এদিকে ‘উইঙ্কেল টুইঙ্কেল’ ছবিটি বক্সঅফিসে হাউজফুল শো দেওয়ার পাশাপাশি অনেকেই একে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ বলে মনে করছেন। দর্শকদের এই তুমুল ভালোবাসা তাঁকে পরবর্তী ছবির জন্য আরও বেশি উৎসাহিত করে তুলেছে বলে জানান সৃজিত।

কেন ‘ফেলুদা’ টোটাকেই বেছে নেওয়া হলো শরৎচন্দ্রের চরিত্রে?
একসময় টোটা রায়চৌধুরীকে নিয়ে বলতে গিয়ে সৃজিত নিজেই বলেছিলেন যে তাঁর ‘ফেলুদা লগ্নে জন্ম’। তবে সেই টোটা কীভাবে কালজয়ী সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে রূপান্তরিত হলেন?

সৃজিত স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বলেন—

“টোটার ফেলুদা চরিত্র নিয়ে এক মারাত্মক উন্মাদনা ছিল। ‘টিনটোরেটোর যীশু’র সময়ও ও নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ফেলুদা হিসেবে কল্পনা করত। কিন্তু টোটা কস্মিনকালেও ভাবেনি যে কেউ ওকে রূপোলি পর্দায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হিসেবে কল্পনা করতে পারে! একটা সময় আমি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না কাকে এই রোলে কাস্ট করব। কিন্তু যে মুহূর্তে টোটার মুখটা আমার মনে ভেসে উঠল এবং ওর ফেস স্ক্যান করলাম, সঙ্গে সঙ্গে বুঝে যাই—টোটা ছাড়া এই চরিত্র আর কেউ করতেই পারবে না।”

শুধু লুক বা পোস্টার ঝলক নয়, বড় পর্দায় টোটার হাঁটাচলা ও কথা বলার ভঙ্গি দেখলে দর্শকরা বুঝতে পারবেন কেন ওকেই এই বিশেষ চরিত্রের জন্য প্রয়োজন ছিল, দাবি পরিচালকের।

জীবনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মিউজিক অ্যালবামের কাজ
সৃজিতের ছবিতে গানের গুরুত্ব বরাবরই অপরিসীম। তবে এবার এক পা এগিয়ে নিজেই ধরেছেন সুরকারের ব্যাটন। মিউজিক টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, নিজের ছবির পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম বানানোর এই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিমির এবং শ্রেয়া ঘোষালের মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করা ছাড়াও এই ছবির অ্যালবামে তিনি দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত নতুনভাবে অ্যারেঞ্জ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছেন, যাকে তিনি বড় প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন।

পুজোর বক্সঅফিস যুদ্ধ নিয়ে ভাবনা
পুজোর মরশুমে একাধিক বড় বাজেটের বাংলা ছবির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা নিয়ে সৃজিত একেবারেই চিন্তিত নন। তিনি সাফ জানান, কোনো পুজোতেই এই বক্সঅফিস লড়াই বা বক্সঅফিস যুদ্ধ নিয়ে তিনি অতিরিক্ত ভাবেন না। প্রযোজক নিজের চেষ্টায় যে সময় ও শো পাবেন, সেভাবেই সিনেমা হলে ছবি দেখানো হবে। আর শেষ পর্যন্ত দর্শকরা যদি ছবিটিকে মন থেকে ভালোবাসেন, তবে সিনেমা হল নিজ থেকেই হাউজফুল হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী এই জনপ্রিয় পরিচালক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *