মণ্ডপে ঘোরার আগেই মাথায় হাত! বাংলায় ডেঙ্গি আক্রান্ত ১০ হাজার পার, মৃত্যুমিছিলের মাঝেই স্বাস্থ্য দফতরের চরম সতর্কতা

দেবীপক্ষের আবহে আলো আর বাজনার সুরে সেজে উঠছে গোটা বাংলা। কেনাকাটা শেষ করে প্যান্ডেল হপিংয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আট থেকে আশি। কিন্তু এই উৎসবের আনন্দের ঠিক মুখে রাজ্যবাসীর কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলল ডেঙ্গির মারাত্মক বাড়বাড়ন্ত। স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১০ হাজারের গণ্ডি পার করে গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪-তে।
উৎসবের ভিড়ে যাতে ডেঙ্গির সংক্রমণ মহামারীর আকার ধারণ না করে, তার জন্য পুজো কমিটি, পুরসভা ও সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা ও লাল সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
আতঙ্কের পরিসংখ্যান: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দুই জেলা
স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী:
-
মোট আক্রান্ত: চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ।
-
মৃতের সংখ্যা: মশাবাহিত এই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন।
-
হটস্পট জেলা: উত্তর ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদে সংক্রমণের গ্রাফ সবচেয়ে ঊর্ধ্বমুখী। এছাড়া কলকাতা, হাওড়া ও হুগলির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতেও দৈনিক সংক্রমণের হার রীতিমতো উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে।
পুজো কমিটিগুলির জন্য স্বাস্থ্য দফতরের কড়া গাইডলাইন
উৎসবের দিনগুলিতে লাখ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে মণ্ডপগুলিতে। সেই সুযোগে যাতে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি না ঘটে, সে জন্য পুজো উদ্যোক্তাদের বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে: ১. জমা জল অবিলম্বে নিষ্কাশন: মণ্ডপ নির্মাণের জন্য রাখা বাঁশের খাঁজ, ত্রিপল, থার্মোকল কিংবা প্লাস্টিকের কাপে যেন এক ফোঁটাও বৃষ্টির জল জমতে না পারে। ২. নিয়মিত ব্লিচিং ও স্প্রে: মণ্ডপ চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় পুজো চলাকালীন নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ও মশা মারার স্প্রে ব্যবহার বাধ্যতামূলক। ৩. আবর্জনা অপসারণ: মেলা ও খাবারের স্টলগুলির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করতে হবে, যাতে মাছি ও মশার উপদ্রব না বাড়ে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সতর্কতা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার শেষ এবং শরতের শুরু—এই সময়টা মশার বংশবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে অনুকূল। তাই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
-
মণ্ডপে যাওয়ার সময় বিশেষ করে শিশুদের গা-ঢাকা পোশাক পরানো উচিত।
-
মশার কামড় থেকে বাঁচতে ওডোমস বা মসকুইটো রিপেলেন্ট ক্রিম ব্যবহার করা দরকার।
-
জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা গায়ে লালচে র্যাশ দেখা দিলে কোনোভাবেই বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে প্যারাসিটামলের ভরসায় না থেকে দ্রুত প্লেটলেট ও ডেঙ্গি পরীক্ষা (NS1/IgM) করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
উৎসবের মরশুমে সামান্য অসাবধানতাই বড়সড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ডেঙ্গি প্রতিরোধে কড়া নজরদারি ও সচেতনতা বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।