৫২ বছর ধরে বিগ বি-র আসল রূপ দেখেছেন ইনিই! অমিতাভের জন্মদিনে মেকআপ ম্যানের ফাঁস করা গোপন কথা শুনলে চমকে যাবেন

বলিউডের শাহেনশা, মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিন মানেই গোটা দেশজুড়ে ভক্তদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। কিন্তু সিলভার স্ক্রিনের আলোর বাইরে এমন একজন মানুষ আছেন, যিনি গত অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে খুব কাছ থেকে দেখেছেন এই জীবন্ত কিংবদন্তির রূপান্তর। তিনি আর কেউ নন, অমিতাভ বচ্চনের দীর্ঘ ৫২ বছরের ব্যক্তিগত মেকআপ শিল্পী দীপক সাওয়ান্ত। বিগ বি-র জন্মদিনে সেই সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রীতিমতো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন তিনি।
১৯৭২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা কেবল একজন তারকা ও মেকআপ শিল্পীর কাজের সম্পর্ক নয়, বরং তা পরিণত হয়েছে পারিবারিক আত্মিক বন্ধনে।
প্রথম দেখার সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত
দীপক সাওয়ান্ত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, তখন তিনি মেকআপের দুনিয়ায় নতুন পা রেখেছেন। ‘রাস্তে কা পাত্থর’ ছবির সেটে অমিতাভের সঙ্গে তাঁর প্রথম কাজ। রোগা-পাতলা, দীর্ঘদেহী এক তরুণ অভিনেতা, যাঁর চোখে ছিল আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন।
-
প্রথম স্পর্শ: দীপক জানান, প্রথম দিন মেকআপ করার সময় হাত সামান্য কাঁপছিল। কিন্তু অমিতাভের অমায়িক ব্যবহার এবং সহজ স্বভাব নিমেষেই সব ভয় দূর করে দিয়েছিল।
-
বিগ বি-র শৃঙ্খলা: সময়ের ব্যাপারে অমিতাভ কতটা নিষ্ঠাবান, তা তুলে ধরে দীপক বলেন, “ভোর চারটে হোক বা কনকনে ঠান্ডা—অমিতজি এক মিনিটও দেরি করতেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির হয়ে বসে থাকতেন মেকআপের জন্য।”
‘কুলি’র সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও উদ্বেগের রাত
দীপক সাওয়ান্তের কথায় উঠে আসে ১৯৮২ সালে ‘কুলি’ ছবির শুটিং চলাকালীন অমিতাভের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথাও।
“সেদিন চোখের সামনে সবকিছু অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। অমিতজি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। আমি দিনের পর দিন হাসপাতালে শুধু প্রার্থনা করেছি। ঈশ্বর তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, সেই পুনর্জন্মের সাক্ষী ছিলাম আমরাও।”
‘ডন’, ‘দিওয়ার’, ‘অগ্নিপথ’ থেকে শুরু করে আজকের ‘পা’ বা ‘গুলাবো সিতাবো’—যুগ বদলেছে, প্রস্থেটিক মেকআপের আধুনিক প্রযুক্তি এসেছে, কিন্তু অমিতাভ বচ্চনের মুখে রঙ-তুলি ছোঁয়ানোর ভরসা হিসেবে সব সময় পাশে থেকেছেন এই দীপক সাওয়ান্তই।
“তিনি কেবল তারকা নন, আমার অভিভাবক”
মেকআপ রুমের আড্ডায় কখনো অমিতাভের কড়া শাসন, কখনো আবার পরিবারের অভিভাবকের মতো স্নেহের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা আজও দীপকের চোখে জল এনে দেয়। জন্মদিনের শুভলগ্নে মেগাস্টারের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে দীপক বলেন, “ভগবান অমিতজিকে শতায়ু করুন। তাঁর মতো মহান ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে ৫২ বছর কাটাতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরম প্রাপ্তি।”