দলীয় দফতরে ড্রপবক্স ফেলে বিরাট চাল! কলকাতা পুরভোটে প্রার্থী হতে চান? আবেদন শুরুর বড় নিয়ম জেনে নিন

পুজোর আবহেই মহানগরে বেজে উঠল কলকাতা পুরনিগম (KMC) নির্বাচনের দামামা। আসন্ন এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে এক ইঞ্চি জমিও তৃণমূলকে ছাড়তে নারাজ ভারতীয় জনতা পার্টি। এবার মহানগরের প্রস্তাবিত সমস্ত ২০৯টি ওয়ার্ডেই একক শক্তিতে লড়াইয়ের ঐতিহাসিক ঘোষণা করল গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে প্রার্থী নির্বাচনে স্বজনপোষণ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখতে চালু করা হলো এক নজিরবিহীন ‘ড্রপ বক্স’ ফর্মুলা।

দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে যে কোনও যোগ্য ব্যক্তি সরাসরি বাক্সে বায়োডাটা ফেলে প্রার্থীপদের আবেদন জানাতে পারবেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের এই ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

কী এই ‘ড্রপ বক্স’ মডেল?

সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকা তৈরি হয় অন্দরের চার দেওয়ালের মাঝে শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যালোচনায়। তবে বিজেপি এবার পুরোপুরি আমজনতা ও যোগ্য ব্যক্তিদের সুযোগ দিতে চায়।

  • দফতরে বসছে ড্রপ বক্স: দলের নির্দিষ্ট কার্যালয়ে রাখা থাকবে একটি বিশেষ ড্রপ বক্স। অফিস চলাকালীন যে কেউ নিজের জীবনপঞ্জি (Biodata) সেখানে জমা দিতে পারবেন।

  • সরাসরি স্ক্রিনিং: জমা পড়া সমস্ত আবেদনপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং জয়লাভের সম্ভাবনা—এই দুটি মাপকাঠিতেই টিকিট বণ্টন করা হবে।

  • আগাম উন্মাদনা: সুকান্ত মজুমদারের দাবি, আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রপ বক্স চালুর ঘোষণার আগেই প্রাথমিক পর্যায়ে হাজার হাজার আগ্রহী প্রার্থী ভোটে লড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

প্রার্থী হওয়ার সুযোগ কারা পাবেন?

কেবল দলের পুরোনো মুখ বা সক্রিয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেই টিকিট সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন কলকাতা গড়তে সমাজের বিশিষ্ট ও পেশাদার ব্যক্তিদের আহ্বান জানানো হয়েছে:

  • ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক ও আইনজীবী: যাঁরা সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কাজ করতে চান, তাঁদের প্রার্থী হিসেবে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

  • তরুণ প্রজন্ম ও সমাজসেবী: স্টার্ট-আপ উদ্যোগী, যুবসমাজ এবং সাংস্কৃতিক জগতের মানুষদের পুরবোর্ডের নীতি নির্ধারণে শামিল করাই দলের লক্ষ্য।

“প্রোমোটার ও সিন্ডিকেট রাজ খতমের লড়াই”

সাংবাদিক বৈঠকে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, তিলোত্তমা তার ঐতিহাসিক মর্যাদা হারিয়েছে ভুল নীতি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতির কারণে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাঁদের লক্ষ্য এমন এক স্বচ্ছ পুর প্রশাসন গড়ে তোলা—যেখানে সাধারণ মানুষকে বাড়ি তৈরি বা কেনাবেচায় কোনও তোলাবাজি বা অসাধু প্রোমোটারদের দৌরাত্ম্য সহ্য করতে না হয়।

দেবীপক্ষের আবহে পুরভোটের এই আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি এবং ২০৯টি আসনে একক লড়াইয়ের হুঙ্কার স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে, পুজো মিটলেই ছোট লালবাড়ি দখলের লড়াইয়ে ময়দানে নামতে চলেছে রাজ্য বিজেপি।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *