আন্দোলন থামানোর কোনো মুচলেকা দিইনি! আদালত থেকে বেরিয়েই ফের রাস্তায় নামার বিস্ফোরক ঘোষণা সিজেপি প্রধানের

আদালত থেকে রেহাই মিললেও নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও পিছু হঠতে নারাজ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। দিল্লির আদালত থেকে জামিনে মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে সরাসরি কেন্দ্র সরকারকে কড়া বার্তা দিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—ভবিষ্যতে প্রতিবাদ বা আন্দোলন করবেন না, এমন কোনও মুচলেকা বা আইনি বন্ডে তিনি স্বাক্ষর করেননি। নিজেদের সাংবিধানিক দাবি আদায়ে খুব শীঘ্রই তাঁরা ফের সর্বশক্তি নিয়ে রাজপথে নামবেন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে জাতীয় রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশকে ঘিরে গত চব্বিশ ঘণ্টায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। নাটকীয় আটকের পর জামিন পেয়েই রাজনৈতিক সংঘাতের সুর আরও উস্কে দিলেন দিপকে।

“আমরা মোদী-শাহকে ভয় পাই না”

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে নিজের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে নাগপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চরম আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন অভিজিৎ দিপকে। তিনি চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন:

“আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ভয় পাই না। আমাদের একশো বার জেলে ভরলেও এই একনায়কতন্ত্রের কাছে মাথা নত করব না। এই স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়েই আমরা দম নেব।”

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি আরও লেখেন, তাঁদের আন্দোলনকে কোনোভাবেই স্তব্ধ করা যাবে না এবং “১০ অক্টোবর তারিখটি ভারতীয় ইতিহাসে স্বৈরতন্ত্রের পতনের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।”

শোকের আবহেও অনড় লড়াইয়ের বার্তা

পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীনই মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দিপকের ৮৫ বছর বয়সি ঠাকুরমা সাবিত্রীবাই দিপকে। ব্যক্তিগত শোকের এই মুহূর্তে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গ্রামে রওনা দিলেও আন্দোলন যে থামছে না, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। দিপকে জানান, দিল্লিতে দলের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিক বৈঠক করে আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা স্পষ্ট করবেন।

দিল্লিতে দফায় দফায় ধরপাকড়

অন্যদিকে, সিজেপি-র ডাকা আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর রাজপথ ছিল চরম উত্তপ্ত। যন্তরমন্তরের দিকে মিছিল করে এগোনোর সময় এসএফআই (SFI), আইসা (AISA) এবং ক্রান্তিকারী যুব সংগঠনের (KYS) ছাত্র-যুবদের পাশাপাশি প্রায় শতাধিক আন্দোলনকারীকে জোরপূর্বক প্রিজন ভ্যানে তোলে দিল্লি পুলিশ। আটক করা হয় সিপিআই(এম) রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাসকেও।

প্রশাসনের ধরপাকড় ও কড়া নজরদারির মুখেও সিজেপি প্রধানের এহেন “ফের রাস্তায় নামব” হুঙ্কার প্রমাণ করে দিল, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই সংঘাত সহজে থামার নয়।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *