লকআপে থাকাকালীনই ঠাকুমার মৃত্যু! বিমান টিকিট থেকে ফোন—অভিজিৎ দিপকেকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি ডিসিপির

রাজধানী দিল্লির বুকে রাজনৈতিক পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে-সহ নেতাদের আটক করা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল দিল্লি পুলিশ। জনপথে ধর্নার কোনও আইনি অনুমতি না থাকা এবং অতীতে এই গোষ্ঠীর কর্মসূচিতে ব্যাপক হিংসা ও ভাঙচুরের ইতিহাস থাকার কারণেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে স্পষ্ট জানালেন ডিসিপি নেহা যাদব।

একই সঙ্গে, পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন অভিজিৎ দিপকের ঠাকুমার মৃত্যু নিয়ে চলা বিতর্কেও সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মানবিক পদক্ষেপের সপক্ষে পূর্ণাঙ্গ বয়ান দিল দিল্লি পুলিশ প্রশাসন।

কেন জনপথে আন্দোলনের অনুমতি মেলেনি?

দিল্লি পুলিশের ডিসিপি নেহা যাদব এক সাংবাদিক বিবৃতিতে জানান, জনপথে বিক্ষোভের জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন:

  • অতীতে ব্যাপক হিংসার ইতিহাস: এই গোষ্ঠী এর আগে যেসব আন্দোলন বা বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল, সেখানে অবাধে পাথর ছোঁড়া, বাসে-গাড়িতে আগুন লাগানো এবং কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনা ঘটেছিল।

  • আইন অমান্য করার প্রবণতা: অতীতে কোনও আইনি নির্দেশিকাই তারা মানেনি। ফলে রাজধানীর স্পর্শকাতর ও অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং সম্পত্তি রক্ষার্থেই এবার ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

  • ১৩৩ ধারা জারি: সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অটুট রাখতে দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৩৩ ধারা জারি করা হয়েছে, যার আওতায় সমস্ত রকম বেআইনি জমায়েত ও ধর্না সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ঠাকুমার মৃত্যু ও পুলিশের ভূমিকা: চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

আটকের সময় অভিজিৎ দিপকের ৮৫ বছর বয়সি ঠাকুমা সাবিত্রীবাই শঙ্কররাও দিপকের আকস্মিক প্রয়াণ ঘটে। পরিবার ও আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ডিসিপি নেহা যাদব জানান:

  • খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ আধিকারিকরা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে নিজে গিয়ে দিপকেকে এই দুঃসংবাদ জানান।

  • মহারাষ্ট্রে শেষকৃত্যে পৌঁছানোর জন্য তাৎক্ষণিক বিমানের টিকিট বুকিং, ফোন ব্যবহারের অনুমতি এবং যাবতীয় সরকারি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

  • তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে চান কি না, তাও বারবার জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু দিপকে নিজেই পুলিশের সমস্ত সাহায্যের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।

জামিন পেয়েই কেন্দ্র ও কমিশনকে কড়া চ্যালেঞ্জ

এদিকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাওয়ার পরই রাজধানীতে সাংবাদিক বৈঠক করে আক্রমণাত্মক অবস্থান বজায় রেখেছেন সিজেপি নেতৃত্ব। দলটির সুপ্রিমো অভিজিৎ দিপকে সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আমরা এমন কোনও মুচলেকায় সই করিনি যে আর রাস্তায় নামব না। আমাদের আন্দোলন চলবে।” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। আরেক নেতা আশুতোষ রাঙ্কা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

দিল্লি পুলিশের এমন কড়া অবস্থান ও আন্দোলনকারীদের পাল্টা হুংকারে নির্বাচন কমিশন বিরোধী এই সংঘাত ঘিরে জাতীয় রাজধানীর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও তীব্র আকার ধারণ করল।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *