“গোপন নথি ফাঁস হলেই মুখ লুকোনোর জায়গা থাকবে না!” নাম না করে বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী, তোলপাড় রাজ্য

রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপের পারদ আরও কয়েক ডিগ্রি চড়িয়ে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নাম উল্লেখ না করেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন তিনি। বিরোধী দলনেতার স্পষ্ট বার্তা—যাঁরা প্রকাশ্যে বড় বড় কথা বলছেন, তাঁদের আসল মেডিকেল রিপোর্ট যদি জনসমক্ষে আনা হয়, তবে তাঁরা আর ঘরের বাইরে মুখ দেখানোর সাহস পাবেন না।
শুভেন্দুর এই কড়া ও বিস্ফোরক আক্রমণ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
শুভেন্দুর চাঁচাছোলা আক্রমণ
এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাসক শিবির ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একযোগে তুলোধনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করে তিনি বলেন, মানুষের সহানুভূতি কুড়োতে বিভিন্ন সময় নানা শারীরিক অসুস্থতা ও চিকিৎসার গল্প ফাঁদা হয়। তবে সত্যকে চিরকাল ধামাচাপা দিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
“কাদের কী শারীরিক অবস্থা, কোথা থেকে কী চিকিৎসা হয়েছে আর আসল মেডিকেল রিপোর্টে কী লেখা রয়েছে—সব তথ্য কিন্তু অজানা নয়। যেদিন সেই সব রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসবে, সেদিন সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়ানোর তো দূর, বাড়ি থেকে বেরোনোর সাহসটুকুও থাকবে না।”
পুরনো বিতর্ক উসকে দিয়ে চাপানউতোর
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে কিংবা রাজনৈতিক সংকটের মুহূর্তে চোট-আঘাত বা চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে আগেও শাসক-বিরোধী কাজিয়া তুঙ্গে উঠেছিল। সেই পুরনো ক্ষতকেই নতুন করে খুঁচিয়ে তুলে সরাসরি বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা। নাম না নিলেও শুভেন্দুর নিশানা যে সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমোর দিকেই, তা বুঝতে কারও বাকি নেই।
শাসকদলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
শুভেন্দুর এই আক্রমণকে সস্তা প্রচার ও রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা বলে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের বক্তব্য, জনসমর্থন হারিয়ে এখন ভিত্তিহীন ও ব্যক্তিগত কুৎসার পথ বেছে নিচ্ছেন বিরোধী দলনেতা। মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
পুজো পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে বিরোধী দলনেতার এমন গোপন নথি ফাঁসের হুমকি রাজ্য রাজনীতির ময়দানে নতুন বিতর্কের বারুদ উস্কে দিল।