দিল্লি যাওয়ার টিকিট কেটেছেন? শনিবারের আগেই চোখ রাখুন রেলের এই জরুরি নির্দেশিকায়, না হলেই বিরাট বিপদ!

সামনেই শারদোৎসব। কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি আর ছুটি কাটানোর শেষ মুহূর্তের পরিকল্পনায় যখন ব্যস্ত সাধারণ মানুষ, ঠিক তখনই রেলযাত্রীদের জন্য নেমে এল চরম দুঃসংবাদ। আগামী শনিবার থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস-সহ দিল্লিগামী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। উৎসবের মৌসুমে এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে রীতিমতো মাথায় হাত পড়েছে হাজার হাজার নিত্যযাত্রী ও পর্যটকদের।

পুজোর ছুটিতে বাড়ি ফেরা কিংবা পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য যাঁরা বহু মাস আগে থেকে ট্রেনের টিকিট কেটে রেখেছিলেন, তাঁদের পরিকল্পনা এখন বিশ বাঁও জলে।

কেন একযোগে এত ট্রেন বাতিল?

রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কোনও আকস্মিক গোলযোগের কারণে নয়, বরং জরুরি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও রেললাইনের আধুনিকীকরণ কাজের জন্যই নেওয়া হয়েছে।

  • ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ ও নন-ইন্টারলকিং কাজ: সংশ্লিষ্ট রেল ডিভিশনে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ও নন-ইন্টারলকিংয়ের কাজ শুরু হচ্ছে।

  • নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ: রেললাইনের সংযোগস্থল সংস্কারের সময় কোনওরকম ঝুঁকি এড়াতে শনিবার থেকেই নির্দিষ্ট রুটের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোন কোন ট্রেনের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব?

রেল সূত্রে খবর, দিল্লি রুটের প্রিমিয়াম ট্রেন হিসেবে পরিচিত রাজধানী এক্সপ্রেসের পাশাপাশি একাধিক সুপারফাস্ট এবং মেল ট্রেনের পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং কয়েকটি ট্রেনকে ঘুরপথে চালানো হবে। ফলে শুধু দিল্লিগামী যাত্রীই নন, সংযোগকারী বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরাও সরাসরি এই সমস্যার মুখে পড়বেন।

টিকিট ফেরত ও বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে কী বার্তা?

যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে রেলওয়ের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে:

  • যে সমস্ত ট্রেন সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে, সেই ট্রেনের সংরক্ষিত টিকিটধারী যাত্রীরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সম্পূর্ণ ভাড়ার টাকা ফেরত (Full Refund) পাবেন। অনলাইন টিকিটের ক্ষেত্রে টাকা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেরত চলে যাবে।

  • দূরপাল্লার যাত্রীদের চাপ সামলাতে বিকল্প রুটে বিশেষ কিছু ট্রেনের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে রেলের ট্রাফিক বিভাগ।

হাতে গোনা কয়েক দিন পরেই পুজো। তার আগেই দিল্লি রুটের অন্যতম লাইফলাইন স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে কার্যত কালঘাম ছুটছে সাধারণ মানুষের। ট্রেনের টিকিট বাতিল করে চড়া দামে বিমান বা বাসের শরণাপন্ন হতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় মধ্যবিত্তের। শনিবার স্টেশন রওনা হওয়ার আগে রেলের হেল্পলাইন বা অফিশিয়াল অ্যাপে নিজ ট্রেনের সময়সূচি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *