“মেট্রো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা চলবে না!” কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, দিল্লি পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চরম ভর্ৎসনা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাজধানীজুড়ে গণপরিবহণ স্তব্ধ করা এবং যথেচ্ছ ধরপাকড়ের ঘটনায় এবার আরও কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি না হলে মেট্রো পরিষেবা বা ইন্টারনেট কখনওই সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা যাবে না। রবিবার বিশেষ শুনানিতে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন্দ্র, দিল্লি পুলিশ ও মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষকে চরম ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে গোটা ঘটনার স্টেটাস রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলী:
রবিবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানির পর বেশ কিছু কঠোর নির্দেশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত:
মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে: ডিএমআরসি (DMRC)-কে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মেট্রো পরিষেবা সীমিত (Regulated) করা যেতে পারে, কিন্তু তা কোনোভাবেই সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা যাবে না। সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইন্টারনেট ও ট্রাফিক সচল করুন: অবিলম্বে ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি চালু করতে হবে। ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যারিকেড সরাতে হবে: শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অবিলম্বে অতিরিক্ত ব্যারিকেড ও ১৬৩ ধারার নোটিশ সরাতে হবে।
সাংবাদিক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা: পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিক বা আইনজীবীকে বাধা দেওয়া বা হেনস্তা করা চলবে না। পাশাপাশি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ থেকে কোনোভাবেই সাধারণ মানুষকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। পুলিশকর্মীদের দায়িত্ব পালনের সময় অবশ্যই দৃশ্যমান ব্যাজ পরে থাকতে হবে।
মঙ্গলবারের মধ্যে জবাব তলব:
গত ৯ অক্টোবরের নির্দেশ অমান্য করার অপরাধে কেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার (Contempt of Court) পদক্ষেপ করা হবে না, তার ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানিয়েছে, সরকার এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ করেছে, তার সমস্ত বিস্তারিত তথ্য আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।