রিয়াধ বিমানবন্দরে ভয়ঙ্কর মিসাইল হামলা! ১২ জনের মৃত্যু ও তিনশোর বেশি জখমের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ফের এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ হামলার সাক্ষী থাকল উপসাগরীয় অঞ্চল। অভিযোগ উঠল, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের বিখ্যাত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এই বিধ্বংসী হামলায় কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন তিনশোরও বেশি মানুষ। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের অসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

টার্মিনালে আছড়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র
সৌদি প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ এবং ৪ নম্বর টার্মিনাল সংলগ্ন কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়। মূলত ডোমেস্টিক বা অভ্যন্তরীণ উড়ানের জন্যই এই টার্মিনালগুলি ব্যবহার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যতগুলি হামলা হয়েছে, তার মধ্যে প্রাণহানির নিরিখে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে মনে করা হচ্ছে।

নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা রয়েছেন। হামলায় হতাহতদের মধ্যে এক মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।

বিমানবন্দর বন্ধ ও কড়া নিরাপত্তা
এই রক্তক্ষয়ী হামলার পরপরই কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সমস্ত ধরনের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। গোটা বিমানবন্দর চত্বর ঘিরে ফেলে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলেছে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, রিয়াধগামী একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলি তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে এই বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া প্রতিক্রিয়া
সৌদির এই গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে হামলার পরেই অত্যন্ত কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুথি বিদ্রোহীদের দমনে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে আমেরিকা সরাসরি অংশ নেবে কি না, সেই বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। হামলার তীব্র নিন্দা করে ট্রাম্প বলেন, “সৌদি আরবে যা ঘটেছে তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা খুব দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।” পাশাপাশি, সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গেও তাঁর কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সৌদির নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই হামলার জন্য সরাসরি হুথিদের দায়ী করেছে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাতে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *