তৃণমূল বিধায়কের গাড়িতে বোমা-ইট বৃষ্টি! জনসংযোগের মাঝেই বিধায়ককে চড়-থাপ্পড়, ডিম ছোড়ার ঘটনায় উত্তাল বারুইপুর

শনিবার জনসংযোগের কাজে বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ধোসা-চন্দনেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিলপি গ্রামে গিয়ে বড়সড় হামলার মুখে পড়লেন মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক বিভাস সর্দার। জয়নগর থানার মনসাতলা এবং গোয়ালবেড়িয়া হাট এলাকায় বিধায়কের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ডিম ছোড়ার পাশাপাশি বোমা মারারও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিধায়ককে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর ও মাথায় ইটের আঘাত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

বিধায়কের বিস্ফোরক অভিযোগ
ঘটনা প্রসঙ্গে বিধায়ক বিভাস সর্দার জানান, “তিলপি থেকে ফেরার সময় মনসাতলায় ৮-১০ জন গাড়ি আটকায়। পরিচয় জানতে চাইলে তারা বলে, ‘তোকে মেরে শ্মশানে পাঠাব। বড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভক্ত হয়েছিস!’ এরপর গাড়ির কাচে ইট মারে। সেখান থেকে কোনোমতে বেরিয়ে আসার পর গোয়ালবেড়িয়া হাটে বিজেপির ছেলেরা আমার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে। বুকে চড়-থাপ্পড়-ঘুসি মেরে মারধর করে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমায় বারবার বলছিল, তুই জিতলি কেন, এখানে আছিস কেন?” বিধায়কের অভিযোগের তির স্থানীয় বিজেপি নেতা সন্দীপ নাইয়া ও তাঁর অনুগামীদের দিকে। শনিবার রাতেই তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং হাসপাতালে তাঁর সিটি স্ক্যান করানো হয়।

পাল্টা সাফাই বিজেপির
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সন্দীপ নাইয়া পাল্টা দাবি করেছেন যে, বিধায়ক নিজেই তিলপি এলাকায় গিয়ে তৃণমূলের মস্তানদের একত্রিত করেছিলেন। সেখানে আবাস যোজনার সার্ভের কাজ চলাকালীন বিজেপি কর্মীরা যুক্ত থাকায় বিধায়ক উস্কানিমূলক মন্তব্য করে আসেন। এরপর ধোসা হাটে সাধারণ মানুষ ও দলের কর্মীরা তাঁর কাছে কৈফিয়ত চাইতে গেলে, বিধায়কের গাড়ি বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে যাওয়ার ফলে বেশ কয়েকজন পথচারী ও কর্মী আহত হন। পরবর্তীতে মনসাতলা ও গোয়ালবেড়িয়া হাটে সাধারণ মানুষের তীব্র জনরোষের মুখেই পড়েন ওই তৃণমূল বিধায়ক। এই ঘটনায় আহত বিজেপি কর্মীদেরও পদ্মেরহাট গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে।

জনসংযোগ যাত্রা ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বর্তমানে চরম রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে বারুইপুর ও জয়নগর এলাকায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *