মাঝরাতে ছাড় পেলেন ধ্রুব রাঠী, রবিবার শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপি নেতাদের! রাজপথে নজিরবিহীন পুলিশি তাণ্ডবে সরগরম দিল্লি

বিতর্কিত ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজধানী দিল্লি। শনিবার নজিরবিহীন ধরপাকড়ের পর মধ্যরাতে ছাড়া পেয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। অন্যদিকে, রবিবার সকালে আদালতে পেশ করা হলে কড়া শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে।

শনিবার দিল্লি বিমানবন্দর থেকে অবতরণের পরপরই এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানের ভেতর থেকেই নজিরবিহীনভাবে গ্রেফতার করা হয় সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে সহ বাকি নেতাদের। একই সময়ে গুরুগ্রামের বাসভবন থেকে আটক করা হয় ধ্রুব রাঠীকে। তবে এই আটক ও পুলিশি পাহারার তোয়াক্কা না করেই আজ, রবিবার ফের যন্তর-মন্তরে নতুন করে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। সংগঠনের জাতীয় সংগঠন বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আজিঙ্কা শিন্ডের নেতৃত্বে এই আন্দোলন পরিচালিত হবে। সিজেপির স্পষ্ট বার্তা, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের লড়াই থামবে না।

বিরোধী নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের গণহারে আটক
শনিবারের এই কর্মসূচিতে সামিল হতে গিয়ে আটক হতে হয়েছে বহু হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে। দিল্লির চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার ছাড়াও বর্ষীয়ান সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনস্থলে পৌঁছানোর আগেই শতাধিক শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং সাধারণ পথচারীদেরও তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

স্তব্ধ রাজধানী, কড়া নিরাপত্তায় দিল্লি পুলিশ
শনিবারের এই আন্দোলন সামাল দিতে রাজধানীর সীমানা, বিমানবন্দর, বাস টার্মিনাল এবং রেল স্টেশনগুলিতে ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের যন্তর-মন্তরে পৌঁছানো আটকাতে বন্ধ করে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন, বাতিল করা হয় ট্রেন পরিষেবা এবং মধ্য দিল্লির সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক উত্তাপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই পুরো ঘটনা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই বিশৃঙ্খলার জন্য কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, বাম দল এবং সিজেপি-কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দেওয়ার জন্য তিনি দিল্লি পুলিশের প্রশংসাও করেন।

অন্যদিকে, সাধারণ নাগরিক, সাংবাদিক ও আন্দোলনকারীদের গণহারে আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়। ভারত সরকারকে সংযম রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থা। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক রাষ্ট্রপুঞ্জের এই হস্তক্ষেপকে সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের যুক্তি, সংবিধান নাগরিকদের অধিকার দিলেও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার সম্পূর্ণ অধিকার রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *