প্রশ্নপত্র ফাঁস চিরতরে বন্ধ! নন্দন নিলেকানির টাস্ক ফোর্সের মেগা রিপোর্টে আর কী কী বদলাচ্ছে জাতীয় পরীক্ষায়?

জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জালিয়াতি চিরতরে বন্ধ করতে নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ-পর্যায়ের টাস্ক ফোর্স অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করে চলেছে। মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে এই কমিটি প্রায় ৫৮টি বৈঠক ও আলোচনা সভা সম্পন্ন করেছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে সংগৃহীত হয়েছে ৫০,০০০-এরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র সম্পূর্ণ পুনর্গঠন, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির কঠোর নিরাপত্তা এবং প্রশ্নপত্র তৈরি ও বিতরণের প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তনের একগুচ্ছ প্রস্তাব নিয়ে চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে চলেছে এই টাস্ক ফোর্স।
এনটিএ পুনর্গঠন ও আইনি ক্ষমতার সুপারিশ:
পরীক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে ইউনাইটেড ডক্টরস ফ্রন্ট (UDF)-এর মতো সংস্থাগুলি এনটিএ-তে কাঠামোগত পরিবর্তনের জোরালো প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী তিন বছরের মধ্যে সংস্থার ৭৫ শতাংশ কারিগরি ও নিরাপত্তা পদে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা এবং আউটসোর্সড কর্মীর সংখ্যা মাত্র ২৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা। শুধু তাই নয়, এনটিএ-কে সম্পূর্ণ আইনি ক্ষমতা সম্পন্ন একটি জাতীয় পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের মর্যাদা দিতে সংসদে বিশেষ আইন পাস করারও সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল ফরেনসিক, সাইকোমেট্রিক্স এবং ভিজিলেন্সের জন্য আলাদা পৃথক বিভাগ চালুর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
পরীক্ষা পদ্ধতি ও কেন্দ্র সুরক্ষায় বড়সড় বদল:
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতি ঠেকাতে পরীক্ষার বিভিন্ন দায়িত্ব যেমন— প্রশ্নপত্র তৈরি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনার কাজগুলি আলাদা আলাদা সংস্থার হাতে ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এমনকি অনুমোদিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির একটি জাতীয় রেজিস্টার তৈরি, প্রতি বছর নিয়মিত পরিদর্শন এবং পরীক্ষা শুরুর ঠিক ১৫ দিন আগে সরেজমিনে অডিট বা নিরীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়মভঙ্গকারী বা মানদণ্ডে ব্যর্থ কেন্দ্রগুলির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সিবিটি (CBT) মোডে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতি:
আগামী বছর থেকেই প্রচলিত পেন-পেপার বা কলম-কাগজের পরিবর্তে কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT) পদ্ধতিতে ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। এর জন্য শক্তিশালী আইটি পরিকাঠামো এবং এআই (AI)-ভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস শনাক্তকরণ ও ডিজিটাল লকিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাবলিক প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া এই সমস্ত তথ্য ও মতামত যাচাই করে এখন চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে এই ঐতিহাসিক সংস্কারের প্রতিবেদনে।