দ্বিচারিতার চরম সীমা! ভারতকে শুল্কের হুমকি দিয়ে নিজেই রাশিয়ার সঙ্গে বিরাট তেল চুক্তি করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফের একবার দ্বিমুখী নীতির নজির স্থাপন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল বা জ্বালানি কেনার জন্য ভারতের মতো দেশগুলিকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বা ট্যারিফ চাপানোর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল হোয়াইট হাউস। কিন্তু সমস্ত নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবার খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই রাশিয়ার কাছ থেকে সরাসরি ডিজেল আমদানির ঐতিহাসিক চুক্তি করল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপে বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রুশ ডিজেল আমদানির ঘোষণা:
গত ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, রাশিয়ার সঙ্গে একটি নতুন জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় অবিলম্বে আমেরিকা রাশিয়া থেকে ৩ লক্ষ টন ডিজেল আমদানি করবে। এমনকি আগামী মাস থেকেই বাকি জ্বালানি রফতানি প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানা গেছে।
ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের খাঁড়া:
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালেই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ‘অপরাধে’ ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সে সময় হোয়াইট হাউসের যুক্তি ছিল, ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার অর্থনীতিকে কোনওরকম সাহায্য না করার জন্যই এই নিষেধাজ্ঞা। কেবল ভারত নয়, চিনসহ যে সমস্ত দেশ রাশিয়ার থেকে জ্বালানি কিনছে, তাদের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর আইনি বিধানও আনা হয়েছিল মার্কিন কংগ্রেসে।
আমেরিকা কেন নিজের নীতি ভাঙল?
প্রশ্ন উঠছে, যে কাজ করার জন্য ভারতকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল, এখন আমেরিকা নিজে সেই একই পথে হাঁটছে কেন? ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আমেরিকান গ্রাহক, কৃষক ও ট্রাক চালকদের ওপর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের মাঝেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া। ফলে মার্কিন মুলুকে তেলের দাম কমানোর জন্য ট্রাম্প সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ লাগাতার বেড়েই চলেছিল।
সমালোচনায় ইউক্রেন:
আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনেস্কি। তাঁর সাফ কথা, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত দুর্বল ও অনুপযুক্ত। যুদ্ধপীড়িত ইউক্রেন এবং তাদের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলির সঙ্গে এটি সম্পূর্ণ এক ধরনের অবিচার বলেই তোপ দেগেছেন তিনি।