দিল্লিতে ধুন্ধুমার! এসআইআর বিক্ষোভের মাঝেই রাহুল-মমতাদের তীব্র আক্রমণ করে বিস্ফোরক মন্তব্য বিজেপির

ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও সমমনা দলগুলির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী। আন্দোলন প্রতিহত করতে রাজধানীজুড়ে জারি হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়। বন্ধ রাখা হয়েছে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন এবং একাধিক ট্রেন। এরই মাঝে দিল্লির মাটিতে পা রাখার আগেই সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সহ শীর্ষ নেতাদের আটক এবং বিরোধী নেতাদের রাষ্ট্রপতি ভবন অভিযান নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানাল শাসকদল বিজেপি।
বিরোধীদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:
শনিবার বিরোধীদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে এক কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তাঁর অভিযোগ, একের পর এক নির্বাচনে জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে এবং গণতান্ত্রিক জনাদেশ মেনে নিতে না পেরে বিরোধীরা সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সংবিধানকে হাতিয়ার করে বিদেশি শক্তির প্রভাবে দেশে অশান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাহুল গান্ধীকে সরাসরি নিশানা করে নীতিন নবীন বলেন, “দেশের মানুষ যখন আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং গণতন্ত্র যখন আপনাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে, তখন সেই রায় মেনে নিয়ে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে আপনারা দেশকে অস্থিতিশীল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাহুল গান্ধীজি, আপনাদের পরিকল্পনা কখনও সফল হবে না।” একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিরোধীরা অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করছে বলেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের কঠোর বার্তার হুংকার:
নীতিন নবীনের দাবি, গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ ও নকশালবাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ‘আরবান নকশাল’ মানসিকতায় বিশ্বাসী কিছু গোষ্ঠী দেশের উন্নয়নযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তবে দেশের ভেতরে বা বাইরে সক্রিয় যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে সরকার এবং বিজেপি অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবারই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চার দফা স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। আর ঠিক তার পরেই শনিবারের এই মেগা বিক্ষোভ ও ধরপাকড়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক পারদ এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে।