“রেজিনগরে ৭৬ হাজার ভোটে মেগা জয় বিজেপির!”-মোট ভোটারের চেয়েও বেশি ভোট পড়ার অভিযোগে তুঙ্গে বিতর্ক

নন্দীগ্রামের সাফল্যের পর এবার ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্র থেকেও বড় জয় ছিনিয়ে নিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। ফলের আগের দিনগুলিতে বিরোধীরা প্রশাসন ও পুলিশি মদতে ভোটলুটের অভিযোগ তুললেও, শুক্রবারের চূড়ান্ত ফলাফলে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৭৫ হাজার ৬৯১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। এই জয়ের ফলে ফলতার রেকর্ড ভেঙে নন্দীগ্রামে যেমন ১ লক্ষ ২৩ হাজার ভোটে জিতেছে বিজেপি, তেমনই রেজিনগরেও বিপুল ব্যবধানে গেরুয়া পতাকা উড়েছে।
সংখ্যালঘু ভোট ও উন্নয়নের বার্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুংকার
নির্বাচনী ফলাফলের পরই এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের ভোটপ্রমাণ করে দিয়েছে যে রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিমদের একটি বড় অংশ এখন বিজেপির ‘রাষ্ট্রবাদী’ সরকারের সঙ্গেই রয়েছেন। তাঁর মতে, অতীতে বিজেপিকে নিয়ে যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল—যেমন মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া বা ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা—গত পাঁচ মাসের রাজ্য সরকারের কাজ দেখে সেই ভুল ধারণা ভেঙে গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বাঙালি মুসলমানদের বেশির ভাগই রাজ্যের উন্নয়ন যজ্ঞের সঙ্গে থাকতে চাইছেন। আগামী দিনে আমরা ৬০% ভোট পাব। সরকারের যত উন্নয়ন প্রকল্প, সেখানে মুসলমান দিদি-বোনেরা রয়েছেন।” পাশাপাশি ২০২৮ সালের পঞ্চায়েত ভোট এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনেই জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে রাষ্ট্রবাদী সরকারের বৃত্ত সম্পূর্ণ করার হুংকার দিয়েছেন তিনি।
রেজিনগরের ভোট পরিসংখ্যান
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রেজিনগর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার মোট ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৭২৪টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টির’ প্রার্থী গোলাম নবি আজাদ (৫৪,০৩৩ ভোট)। অন্যদিকে, ৬,১৪৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস (প্রার্থী আবদুল্লাহিল কাফি), ৩,৮৩৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে মমতা-তৃণমূল (প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী), এবং ৩,৭৮১ ভোট পেয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে সিপিএম। এছাড়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের গণতান্ত্রিক তৃণমূল প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ পেয়েছেন মাত্র ২,০৪০ ভোট।
অতিরিক্ত ভোট পড়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য
এদিকে ভোটের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই রেজিনগরের ১০৯ নম্বর বুথ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধীদের দাবি, ওই বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ৭৭২ জন হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি নাকি ৯০৯টি ভোট পেয়েছে! এই অসঙ্গতি তুলে ধরে কংগ্রেসের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আক্রমণ শানান মমতা-তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে তিনি মন্তব্য করেন, “উত্তর কোরিয়াও এই নির্বাচনী পাটিগণিতের ব্যাখ্যা দিতে কষ্ট পাবে! জ্ঞানেশ কুমার, একটা বুথে মোট নির্বাচকের চেয়ে বেশি ভোট কী ভাবে একটা দল পায়?”
যদিও নির্বাচন কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে যে ওই বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা আসলে এক হাজারের বেশি ছিল। বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারও এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে খারিজ করে দিয়েছেন। জয়ের সমস্ত কৃতিত্ব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে উৎসর্গ করে তিনি জানান, এই জয় সম্পূর্ণভাবে রেজিনগরবাসীর।