‘ক্রিকেট খেলায় আম্পায়ার বাছছে ব্যাটিং টিম!’ জ্ঞানেশ কুমার মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মেগা আপডেট সংবাদ প্রতিবেদন

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে শুরু হলো নতুন আইনি বিতর্ক। ২০২৩ সালের বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষাপটে এবার বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার পূর্বের রায় প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে একটি নতুন আবেদন জমা পড়েছে। এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ নজর রাখছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মোদি সরকার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগের জন্য একটি নতুন আইন আনে। সেই আইন অনুযায়ী, কমিশনার বাছাই প্যানেল থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর মনোনীত এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে রাখা হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থার ফলে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হচ্ছে।
এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত অত্যন্ত জোরালো মন্তব্য করে বলেন, “যে দল ব্যাট করছে, তারাই যদি আম্পায়ার ঠিক করে, তবে সেই আম্পায়ার সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেও তাতে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়।” অন্যদিকে, আইনের বৈধতা পর্যালোচনার জন্য মামলাটি সংবিধান বেঞ্চে পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা।
এরই মধ্যে নতুন আবেদন জমা পড়ায় মামলা নতুন মোড় নিয়েছে। আবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিচারপতি শর্মা তাঁর নিজের ছেলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পেশাগত সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। বুধবার বিশিষ্ট আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করলে, প্রধান বিচারপতি তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। একদিকে যখন বিরোধীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব, অন্যদিকে আইনি লড়াইয়ের এই নতুন মোড়ে পরিস্থিতি কোন দিকে জল গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও আইনিমহল।