৮০ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার পর হুঁশ ফিরল বাবা-মায়ের! ধাবায় আট বছরের ছেলেকে ফেলে রেখেই উধাও পরিবার

তীর্থদর্শনে এসে সন্তানের প্রতি চরম অবহেলা ও উদাসীনতার এক অবিশ্বাস্য ঘটনা সামনে এল। উত্তর প্রদেশ থেকে হিমাচল প্রদেশে শক্তিপীঠ দর্শনে আসা একটি ভক্ত পরিবার চা ও জলখাবারের জন্য একটি ধাবায় থেমেছিল। কিন্তু নাস্তা সেরে গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার সময় তারা তাদের আট বছরের ছোট্ট ছেলেকে ওই ধাবাতেই ফেলে যান! দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর অবশেষে টনক নড়ে বাবা-মায়ের। পুলিশের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে সুস্থভাবে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার, হিমাচলের উনা জেলার আম্ব এলাকার ধুসারা অঞ্চলে। উত্তর প্রদেশ থেকে আসা ওই পরিবারটি একটি টেম্পো ট্র্যাভেলারে চেপে তীর্থযাত্রায় বেরিয়েছিল। পথিমধ্যে সকালের নাস্তা ও চা খাওয়ার জন্য একটি ধাবার সামনে গাড়ি থামান তাঁরা। নাস্তা পর্ব শেষ হওয়ার পর পরিবারের সকলে মিলে ফের গাড়িতে উঠে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু চরম বিস্ময়ের বিষয় হলো, পরিবারের অজান্তেই তাদের আট বছরের শিশুপুত্রটি সেই সময় ধাবাতেই রয়ে গিয়েছিল।

এদিকে, গাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর চারপাশ ফাঁকা দেখে এবং বাবা-মাকে দেখতে না পেয়ে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসায় তাঁরা তৎক্ষণাৎ পুলিশে খবর দেন।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শুরু হয় খোঁজ:
খবর পাওয়া মাত্রই আম্ব থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শিশুটিকে নিজেদের নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে পরিবারের খোঁজ শুরু করে। কিন্তু শিশুটির পরিবার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় পুলিশের কাছে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর পুলিশ আম্ব চক এবং তার আশেপাশের এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্ক্যান করা শুরু করে। দীর্ঘ তল্লাশির পর সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্যেই ওই নির্দিষ্ট টেম্পো ট্র্যাভেলারটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

গাড়ির নম্বরের সূত্র ধরে প্রথমে মালিক এবং পরবর্তীতে চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। পুলিশ ফোন করে যখন চালককে পুরো বিষয়টি জানায়, ততক্ষণে গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে চলে গিয়েছে। পুলিশের ফোন পাওয়ার পরই বাবা-মায়ের হুঁশ ফেরে এবং তাঁরা বুঝতে পারেন যে তাঁদের আদরের সন্তানকে তাঁরা পথেই ফেলে এসেছেন। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে আসেন তাঁরা। পুলিশের দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে শিশুটির কোনো ক্ষতি হয়নি এবং তাকে নিরাপদে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে সন্তানের প্রতি এমন মারাত্মক ও অবিশ্বাস্য অবহেলার ঘটনাটি এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *