“মোদীজি লড়ে যাও, আমরা আছি!” কনট প্লেসে হঠাৎ মোদী ও দিল্লি পুলিশের সমর্থনে স্লোগান যুবকদের

রাজধানী দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র ধরা পড়ল। শুক্রবার রাজধানী দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ও অভিজাত এলাকা কনট প্লেস এবং জনপথ চত্বরে একদল তরুণ ও যুবককে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দিল্লি পুলিশের সমর্থনে জোরদার স্লোগান দিতে দেখা গেল। বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় এই যুবকদের মধ্যে চরম উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়, যা মুহূর্তের মধ্যে ওই এলাকার পথচারী ও সাধারণ মানুষের নজর কেড়ে নেয়।

কী ধরনের স্লোগান উঠল রাজপথে?
এদিন জনপথ এলাকায় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারী যুবকদের কণ্ঠে শোনা যায়— “মোদী জি, লড়াই করুন, আমরা আপনার সাথে আছি” এবং “দিল্লি পুলিশ, বলপ্রয়োগ করুন, আমরা আপনার সাথে আছি”। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে বার্তা দিয়ে তাঁরা “বলপ্রয়োগ দীর্ঘজীবী হোক, আমরা আপনার সাথে আছি” বলেও স্লোগান দেন। একদল তরুণের এই স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত ও স্লোগানকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় সাময়িক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পুলিশের নিষেধাজ্ঞা ও ১৬৩ ধারা জারি:
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হয় দিল্লি পুলিশ। পুলিশ কর্মীরা বিক্ষোভকারী যুবকদের পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, বর্তমান আইন ও নিরাপত্তার খাতিরে এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা রয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ১৬৩ ধারা অনুযায়ী ওই এলাকায় যে কোনো ধরনের জমায়েত বা বিক্ষোভের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এরপর পুলিশ আইন মেনে সকলকে শান্ত থাকার এবং সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে এই হঠাৎ বিক্ষোভের নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না বা পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

আগামীকালের সিজেপি বিক্ষোভ ও পুলিশের অবস্থান:
উল্লেখ্য, আগামীকালের সিজেপি (তেলাপোকা জনতা পার্টি)-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভ প্রসঙ্গে এদিনই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেস কনফারেন্স করেছে দিল্লি পুলিশ। যুগ্ম পুলিশ কমিশনার নুপুর প্রসাদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাসের পক্ষ থেকে আগামী ১০ই অক্টোবর যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC)-এর জবাবদিহিতার দাবিতে একটি বিক্ষোভের আবেদন জমা পড়েছিল।

তবে সেই আবেদন পুলিশ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। পুলিশের যুক্তি, নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো জমায়েত বা প্রতিবাদের অন্তত ১০ দিন আগে নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও, এই আবেদনটি সেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করা হয়নি। পাশাপাশি, অতীতেও এই সংগঠনের পূর্ববর্তী একটি প্রতিবাদের সময় তারা আইনি বাধ্যবাধকতা এবং নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিল বলে অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। একদিকে প্রশাসনের কড়া সতর্কতা এবং অন্যদিকে যুবকদের এই সমর্থন— সব মিলিয়ে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ উত্তপ্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *