ভোরবেলা ঘুমন্ত মায়ের পাশ থেকে উদ্ধার মেয়ের দেহ! খোদ হোম গার্ড স্বামীর বিরুদ্ধে জোড়া খুনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

নবাবদের শহর লখনউয়ের কৃষ্ণনগর এলাকায় শুক্রবার সকালে এক লোমহর্ষক ও নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। ভোলা খেড়া এলাকায় পিএসি (PAC)-তে কর্মরত এক হোম গার্ড রবীন্দ্রের বিরুদ্ধে তাঁর নিজের স্ত্রী শ্যামদুলারি এবং ৩২ বছর বয়সী তালাকপ্রাপ্তা কন্যা পূজাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই বাড়ির ভেতর থেকে মা ও মেয়ের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সবথেকে বড় কথা, এই নৃশংস কাণ্ড ঘটার পর অভিযুক্ত নিজেই পুলিশকে ফোন করে খবর দেয় এবং এরপর পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে।

পারিবারিক বিবাদের জেরেই কি এই খুন?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, কৃষ্ণনগর থানার ভোলা খেড়ার একটি বাড়ি থেকে শ্যামদুলারি ও তাঁর মেয়ে পূজার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুজনকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তীব্র পারিবারিক কোনো বিরোধ কাজ করেছিল বলেই প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঝামেলার সূত্রপাত এবং এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বা ক্ষোভ লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নিজে ফোন করে পুলিশকে জানায় অভিযুক্ত:
এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিকটি হলো, ঘটনা ঘটার পর অভিযুক্ত হোম গার্ড রবীন্দ্র বিন্দুমাত্র পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে নিজেই সরাসরি পুলিশকে ফোন করে সমস্ত বিষয়টি জানায়। খবর পাওয়া মাত্রই কৃষ্ণনগর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এরপর মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত রবীন্দ্রকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

তদন্তে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন:
ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ এবং ফরেন্সিক দল প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করছে। এই বিষয়ে ডিসিপি (DCP) মোহাম্মদ মুহস্তাক জানিয়েছেন, মা ও মেয়ের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি খুঁটিনাটি দিক, পারিবারিক অশান্তির ইতিহাস এবং এই অপরাধের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত রয়েছে কি না— সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারাও সোচ্চার হয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *