সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিকের প্রথম পোস্টার নিয়ে জোর বিতর্ক! অবশেষে মুখ খুললেন রাজকুমার রাও

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Sourav Ganguly) বায়োপিকের প্রথম ঝলক ও পোস্টার প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু পোস্টারটি প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশংসার বদলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ছবির নির্মাতাদের। সেই বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন ছবিতে সৌরভের ভূমিকায় অভিনয় করতে চলা অভিনেতা রাজকুমার রাও (Rajkummar Rao)। তাঁর মতে, তাড়াহুড়ো না করে আরও বেশি সময় নিয়ে কাজ করা উচিত ছিল নির্মাতাদের। প্রথম পোস্টার ঘিরে দর্শকের মনে যে ক্ষোভ ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার অবকাশ রয়েছে বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর উপলব্ধি, সৌরভকে নিয়ে অনুরাগীদের আবেগ এবং প্রত্যাশা দুটোই অত্যন্ত বিপুল।
পোস্টার বিতর্ক ও সমালোচনার জবাব:
এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাজকুমার জানান যে, পোস্টার তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই সমালোচনা থেকে সঠিক শিক্ষা নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “যাঁরা পোস্টারটি তৈরি করেছেন, তাঁরা পুরো বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এবং নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। তাঁরা বুঝেছেন, কাজটা আরও সময় নিয়ে করা দরকার ছিল। হাতে এখনও সময় রয়েছে। আমার মনে হয়, গোটা দলই এই ঘটনা থেকে একটি বড় শিক্ষা নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তাঁরা এটাও উপলব্ধি করেছেন যে দাদার অনুরাগীর সংখ্যা এবং তাঁদের আবেগ কতটা গভীর।”
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই সৌরভের জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশ্যে এসেছিল বহু প্রতীক্ষিত এই বায়োপিকের প্রথম পোস্টার। সেখানে লন্ডনের লর্ডসে দাঁড়িয়ে ভারতীয় দলের জার্সির বদলে নীল প্যান্ট পরা অবস্থায় ভারতীয় পতাকা হাতে রাজকুমারকে দেখা গিয়েছিল। ছবিটি স্বভাবতই ফিরিয়ে এনেছিল ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালের সেই স্মরণীয় স্মৃতি। ইংল্যান্ডকে ঐতিহাসিক কায়দায় হারিয়ে লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে জামা খুলে সৌরভের সেই উদ্দাম উদযাপনের মুহূর্ত আজও ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে। বায়োপিকের প্রথম পোস্টারে সেই দৃশ্যকেই নতুন করে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন নির্মাতারা।
কিন্তু সেই প্রয়াস দর্শকের একাংশের মন জয় করতে পারেনি। পোস্টারের উপস্থাপনা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি কেউ কেউ ছবিটি দেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর (AI) সাহায্যে তৈরি বলেও তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেন। ফলে সৌরভের সেই গৌরবের মুহূর্তকে পর্দায় ঠিক কীভাবে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয় বিস্তর কাটাছেঁড়া। এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া বুঝিয়ে দেয় যে, শুধু সৌরভের চরিত্রে রাজকুমারের মতো দক্ষ অভিনেতার উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়, দর্শকের আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা পূরণ করাও নির্মাতাদের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
সৌরভের সঙ্গে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত আলোচনা:
অবশ্য পর্দায় ‘দাদা’কে নিখুঁত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের সঙ্গে বেশ কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন রাজকুমার। অভিনেতা জানিয়েছেন যে, সৌরভের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার দেখা হয়েছে। ছবির কাজের সুবাদেই তিনি কলকাতায় বেশ কিছু দিন কাটিয়েছেন। সৌরভের বাসভবন এবং ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সেও শুটিং করেছেন তিনি। সেই সময় ক্রিকেটারের সঙ্গে নানা বিষয়ে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এমন কিছু ব্যক্তিগত এবং মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ও উঠে এসেছে, যা আপাতত প্রকাশ্যে আনতে নারাজ অভিনেতা।
রাজকুমারের ভাষায়, “সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার একাধিকবার দেখা হয়েছে। ওঁর বাড়িতে এবং ইডেন গার্ডেন্সেও আমরা শুটিং করেছি। বেশ কিছু দিন কলকাতায় থেকে দাদার সঙ্গে অনেকটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছি। আমাদের মধ্যে নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা হয়েছে। এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা এখনই প্রকাশ্যে বলতে চাই না। একজন মানুষ ঠিক কীভাবে ভাবেন, তাঁর মানসিকতার গঠন বুঝতে গেলে ব্যক্তিগত বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। উনি আমার সামনে নিজের জীবনের অনেক কথাই খুব খোলাখুলি বলেছেন।”
সৌরভের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও গোপন রাখেননি রাজকুমার। তাঁর মতে, ভারতীয় ক্রিকেটের আজকের এই আধুনিক চেহারা গড়ে ওঠার পিছনে সৌরভের অবদান পুরোপুরি অনস্বীকার্য। “আমরা সবাই ওঁকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। উনি একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। আজকের ভারতীয় দলের জয়ের যে শক্ত ভিত, তার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দাদার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,” বলেছেন অভিনেতা।
এদিকে সৌরভের বায়োপিক নিয়ে দেশজুড়ে চর্চা চলার মাঝেই নিজের পরবর্তী ছবি ‘প্রহার: দ্য উজ্জ্বল নিকম স্টোরি’ (Prahaar: The Ujjwal Nikam Story)-র প্রচারে রীতিমতো ব্যস্ত রয়েছেন রাজকুমার রাও। অবিনাশ অরুণ পরিচালিত এই কোর্টরুম ড্রামাটি প্রযোজনা করেছে দীনেশ ভিজানের জনপ্রিয় সংস্থা ম্যাডক ফিল্মস (Maddock Films)। ছবিতে রাজকুমারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ওয়ামিকা গাব্বি, ললিত প্রভাকর, জয়দীপ আহলাওয়াত এবং সিকন্দর খেক। আগামী ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ছবিটির।
সৌরভের বায়োপিকের প্রথম পোস্টার যে দর্শকদের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি পাল্লা দিতে পারেনি, তা রাজকুমারের বক্তব্যেও স্পষ্ট। তবে নির্মাতারা যে সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং ভুল শুধরে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছেন, তা স্বস্তির বিষয়। ক্রিকেটের মাঠে সৌরভ যেমন নিজের অদম্য নেতৃত্বে ভারতীয় দলকে এক নতুন আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন, তেমনই বড় পর্দায় তাঁর বর্ণময় জীবন তুলে ধরার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন সঠিক সময়, নিপুণ প্রস্তুতি এবং সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধি। কারণ, দাদাকে নিয়ে ছবি মানে শুধুই একজন ক্রিকেটারের গল্প নয়, বরং কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসকে সেলুলয়েডে জীবন্ত করে তোলার এক বিরাট দায়িত্ব।