পুজোর অনুদানে করের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ! জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট

দুর্গাপুজোর অনুদানের টাকার ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট বা ব্যবহারের শংসাপত্র সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলার ফের জরুরি ভিত্তিতে শুনানির দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। মামলাকারীর অভিযোগ, গত বছর কলকাতা হাইকোর্ট অনুদান সংক্রান্ত যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা ঠিকমতো পালন করা হয়নি। তা সত্ত্বেও নতুন সরকার এসে ক্লাবগুলিকে দুর্গাপুজোয় অনুদান দিয়ে চলেছে এবং সাধারণ মানুষের করের টাকা নয়ছয় করা হচ্ছে— এই অভিযোগে মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল।

তবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলার জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পুজোর ছুটির পর রেগুলার বেঞ্চেই ক্রম অনুযায়ী এই মামলার শুনানি হবে।

মামলাকারীর মূল অভিযোগ ও হাইকোর্টের আগের নির্দেশ:
এই আবেদনে মামলাকারীর আইনজীবী দাবি করেছেন যে, আগের বছরও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই সময় বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল— যে ক্লাবগুলিকে দুর্গাপুজোর অনুদান দেওয়া হচ্ছে, তাদের আবশ্যই খরচের ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ বা শংসাপত্র জমা দিতে হবে। যারা খরচ সংক্রান্ত সেই সার্টিফিকেট দিতে পারবে না, তাদের অনুদানের টাকা ফেরত দিতে হবে এবং এরপর থেকে তাদের অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আইনজীবীর অভিযোগ, আদালতের সেই নির্দেশ ঠিকমতো পালন না করেই ফের ক্লাবগুলিকে অনুদান দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের করের টাকায় পুজোর অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি এবং সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, পুজোর ছুটির পর নিয়মিত বেঞ্চেই মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর দুর্গাপুজোয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার পুজো কমিটিগুলির জন্য ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করেছিল, যার আগের বছর এই পরিমাণ ছিল ৮৫ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলে ৮০ শতাংশ ছাড় এবং ফায়ার লাইসেন্স সহ বিভিন্ন সরকারি ফি মকুব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিগত সরকার। সেই অনুদানের হিসাব বা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা না দেওয়া সত্ত্বেও চলতি বছরও রাজ্য সরকার ক্লাবগুলিকে অনুদান ও বিদ্যুৎ বিলে ছাড় দিয়ে চলেছে— এমনটাই অভিযোগ তুলে পুরনো মামলার জরুরি শুনানির আবেদন করেছিলেন আইনজীবী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *