“আমার কাছে তিনি ওই মৃত শয়তানই!” নানা পাটেকরের মৃত্যুর পরেও তনুশ্রীর মন্তব্যে তুলকালাম টিনসেল টাউনে

বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর গোটা বিনোদন জগত যখন শোকে স্তব্ধ এবং তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ বিপরীত সুর শোনা গেল তনুশ্রী দত্তর গলায়। ভারতে ‘মি টু’ (Me Too) আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তাঁর অতীতের যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে এখনও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তীব্র সমালোচনা ও আইকাওয়ার (AICWA) ধিক্কার সত্ত্বেও নিজের সেই বিতর্কিত ‘ইভিল ডেড’ বা মৃত শয়তান মন্তব্য থেকে সরে দাঁড়াতে নারাজ তিনি।
কী বলেছিলেন তনুশ্রী?
নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও শেয়ার করেন তনুশ্রী। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তিনি লখনউয়ের একটি ইভেন্টে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত আছেন এবং ঠিক কী প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত তা তিনি ভেবে দেখছেন না। তবে ভিডিওতে পরোক্ষভাবে সমবেদনা প্রকাশ করলেও পরে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁর কাছে নানা পাটেকরের অবস্থান বদলায়নি।
সংবাদসংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তনুশ্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “মি টু আন্দোলনের পর বিগত পাঁচ-ছয় বছর ধরে আমি যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, তা একবার আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমার ওপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, লোভনীয় প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি মাথা নত করিনি। এর পর আমার গাড়ির ব্রেক কেটে দেওয়া হয়েছিল, দুর্ঘটনা ঘটেছিল, ফুড পয়জনিংয়ের মতো ঘটনাও ঘটেছে। আমি যা সহ্য করেছি, তা ভাবলে আমার কাছে উনি ‘ইভিল ডেড’ বা মৃত শয়তান ছাড়া আর কিছুই নন।”
ক্ষমা করতে নারাজ অতীত যন্ত্রণাকে:
মিড-ডে-কে দেওয়া পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে তনুশ্রী জানান যে গত ৫-৭ বছর ধরে তিনি চরম আতঙ্কে দিন কাটিয়েছেন। তাঁর কথায়, “সব কষ্টের হয়তো শেষ হয়। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে যে মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে আমি গিয়েছি, তার দাগ কোনোদিন মুছে যাওয়ার নয়। হয়তো একজন মানুষ মারা গেছেন, যাঁর মনে আপনার প্রতি ঘৃণা ছিল। কিন্তু তার আগে যা ঘটে গেছে, তা ভোলা যায় না।”
সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষোভ:
তনুশ্রী দত্তর এই মন্তব্যের পরেই তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (AICWA)। সংস্থার সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল দত্ত তনুশ্রীর মন্তব্যকে অত্যন্ত আপত্তিকর, সংবেদনশীলতাহীন ও লজ্জাজনক বলে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, “চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে আজ পর্যন্ত কেউ এমন অসংবেদনশীল মন্তব্য করেননি। আপনিই প্রথম এবং আমরা আশা করব আপনিই শেষ হবেন।”
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওক প্লিডস্’ (Horn Ok Pleasss) ছবির শুটিং চলাকালীন নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছিলেন তনুশ্রী। যা পরবর্তীকালে ভারতে #MeToo আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল। যদিও নানা পাটেকর সেই সমস্ত অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছিলেন, তবে প্রবীণ অভিনেতার প্রয়াণের পরেও তনুশ্রী দত্তের এই অনড় অবস্থান বর্তমানে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে বিনোদন জগতে।