১৪ বছর ধরে যাঁর সেবাযত্ন, তাঁকেই পদপিষ্ট করে মারল পোষ্য হাতি! তিরুচানুর মন্দিরে মর্মান্তিক পরিণতি মাহুতের

দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ধরে যে হাতিটিকে পরম যত্নে নিজের সন্তানের মতো লালনপালন করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই পোষ্য হাতির আক্রোশেই প্রাণ হারাতে হলো এক প্রবীণ মাহুতকে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিখ্যাত তিরুচানুরের পদ্মাবতী আম্মাভারী মন্দিরে হাতির আকস্মিক আক্রমণে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে চন্দ্রশেখর নামের এক মাহুতের। এই ঘটনায় গোটা মন্দির চত্বর এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কীভাবে ঘটেছিল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা?
মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ছ’টার দিকে নিজের নিয়মিত ‘উনজাল সেবা’-র জন্য হাতিশালা থেকে ‘শ্রীনিধি’ নামের ১৭ বছর বয়সি হাতিটিকে মন্দির প্রাঙ্গণে নিয়ে আসছিলেন মাহুত চন্দ্রশেখর। ঠিক সেই সময়ই বাহন মণ্ডপের কাছে হঠাৎই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে হাতিটি। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শ্রীনিধি তার বিশালাকার শুঁড় দিয়ে চন্দ্রশেখরকে সজোরে পেঁচিয়ে ধরে মাটিতে আছড়ে ফেলে এবং এরপর পা দিয়ে নির্মমভাবে মাড়িয়ে দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় চন্দ্রশেখরকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে তিরুপতির সুইমস (SIMS) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত চার দিন ধরে চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন বাঁচানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত চতুর্থ দিনে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মন্দির প্রশাসন এবং তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম (TTD)-এর ঊর্ধ্বতন কর্তারা কড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
কেন হঠাৎ এমন আক্রমণাত্মক হয়ে উঠল হাতিটি?
দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে শ্রীনিধির মতো বিশালকায় হাতিটির দেখভাল করতেন চন্দ্রশেখর। ফলে এই নৃশংস আক্রমণ কেন ঘটল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর জল্পনা। টিটিডি-র পশুচিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, হরমোনের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলেই হাতিটি এমন উগ্র রূপ ধারণ করে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষ হাতির দেহে টেস্টোস্টেরন (Testosterone) হরমোনের মাত্রা হঠাৎ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার ফলে তাদের মধ্যে অতিরিক্ত খিটখিটে ভাব ও হিংস্র আচরণ দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।
তবে হাতির আচরণের এই আকস্মিক বদল নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন মৃত মাহুতের স্ত্রী। তাঁর দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই শ্রীনিধির আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন চন্দ্রশেখর এবং হাতিটি আগের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছিল। এমনকি এই বিষয়ে তিনি মন্দির কর্তৃপক্ষকে আগেও সতর্ক করেছিলেন বলে দাবি করেছেন শোকার্ত পরিবার। বর্তমানে মৃত মাহুতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিরুচানুর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে এবং হাতিটির সাম্প্রতিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।