দিল্লির বিমানবন্দরে ৯.৯ কোটির সোনা পাচার! কালো চেইনের আড়ালে কীভাবে চলত এই র্যাকেট?

দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (IGI) বিমানবন্দরে একটি আন্তর্জাতিক সোনা পাচার চক্রকে বড়সড় ধাক্কা দিল দিল্লি কাস্টমস। গত মাসে দুবাই থেকে আসা আটজন যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ৯.৯ কোটি টাকার ৬.৫ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মুখ্য কমিশনার মণীশ কুমারের কার্যালয়ের বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর এই সফল অভিযান চালানো হয়।

কালো চেইনের আড়ালে অভিনব কায়দায় পাচার:
তদন্তে জানা গেছে, পাচারকারীরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে স্ক্যানার বা চেকিংয়ের চোখ এড়াতে সোনাগুলিকে কালো ও রুপোলি রঙের ধাতব চেইনের রূপ দিয়ে লুকিয়ে নিয়ে আসছিল। তদন্তকারীদের মতে, এই সিন্ডিকেটটি মূলত প্রতি তিন থেকে চার মাস অন্তর এই রুট ব্যবহার করে পাচারকার্য চালাত। সাম্প্রতিক এই বাজেয়াপ্তকরণের ফলেই তাদের দীর্ঘদিনের এই মোডাস অপারেন্ডি বা পাচারের নকশা ফাঁস হয়ে গেছে।

অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও কড়া পদক্ষেপ:
এই ঘটনার পরই বিমানবন্দর চত্বরে কাস্টমস বিভাগের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক পর্যালোচনা। পাচারকারীদের সঙ্গে শুল্ক বিভাগের কোনো কর্মী বা আধিকারিকের যোগসাজশ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি ভিজিল্যান্স তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন কাস্টমস অফিসারকে অসংবেদনশীল ব্যাক-অফিস পদে বদলি বা স্বদেশে পাঠানো হয়েছে এবং এক আধিকারিককে সাসপেন্ডও করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে বাড়ল সোনার উদ্ধার:
দিল্লি কাস্টমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সোনা উদ্ধারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই ইতিমধ্যেই ৪২.৯১ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৪৭.১৫ কেজি। শুধু সোনা নয়, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও বাজেয়াপ্ত করেছে বিভাগ।

মুখ্য কমিশনার মণীশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিমানবন্দরে নজরদারি আরও কড়া করা হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে বিভাগ। এই হাইপ্রোফাইল ঘটনায় বিমানবন্দর নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থার ফাঁকফোকরগুলি নিয়ে এখন জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *