“ভারতের আসল বস কি আম্বানি?” স্টারলিংক বিতর্ক নিয়ে এলন মাস্কের সরাসরি তোপে শোরগোল জাতীয় রাজনীতিতে!

ভারতের টেলিকম সেক্টরে স্টারলিংকের (Starlink) বাণিজ্যিক লাঞ্চ নিয়ে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন রূপ নিয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতে। বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি এলন মাস্ক সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে, দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক স্বার্থ বা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান মুকেশ আম্বানিই কি ভারতের “আসল বস”? আর এই মন্তব্য ঘিরেই এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য এবং রাজনৈতিক তরজা।

মাস্কের অভিযোগ ও রাহুল গান্ধীর ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য:এর আগে এলন মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন যে, একচেটিয়া বাজার ধরে রাখতে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বা অলিগার্করা ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছে। এরপর তিনি প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন যে, মুকেশ আম্বানি কি ভারতের আসল চালিকাশক্তি? এই বিতর্কে জড়িয়ে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী মাস্ককে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “ভারতে আপনাকে স্বাগত এলন, অন্য ব্যক্তিটির দেখা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন।” জবাবে মাস্ক ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, “বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগজনক।” রাহুলের এই মন্তব্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও কটাক্ষপূর্ণ বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরম।

রাজীব চন্দ্রশেখরের কড়া জবাব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গ:এই বিতর্কের মুখে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এবং বিজেপির তরফেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বিজেপির কেরালা ইউনিট সভাপতি তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর দীর্ঘ পোস্টে মাস্ককে কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় প্রযুক্তি ও টেলিকম সেক্টর ‘খোলা, নিরাপদ এবং দায়বদ্ধ’ (OSTA) নীতিতে চলে। স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন বা ইন্টারনেট ভিত্তিক ভয়েস কলের ক্ষেত্রে জাতীয় সুরক্ষার বড় প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ২৬/11 মুম্বই হামলা ও পহেলগাঁও সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ টানেন। রাজীব স্পষ্ট জানান, সমস্ত স্যাটেলাইট লাইসেন্সধারীকে একই ধরনের নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, সুতরাং এখানে ধৈর্য ধরাটাই আবশ্যক।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও সাফ জানানো হয়েছে যে, স্টারলিংকের লাইসেন্স বা বর্ণালী (Spectrum) বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে কোনো বৈষম্য করা হচ্ছে না। সমস্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত ক্লিয়ারেন্স স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে, তা মিটলেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তবে বিদেশি ধনকুবেরের এহেন মন্তব্য এবং বিরোধী শিবিরের পালটা আক্রমণ দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *