ভোরের আলো ফুটতেই ভয়ংকর দুর্ঘটনা! দাঁড়িয়ে থাকা লরির পিছনে মুরগির গাড়ির ধাক্কায় মৃত ৫

শুক্রবার ভোরে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ। জাতীয় সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালির লরির পিছনে মুরগি বোঝাই একটি ছোট গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় এই দুর্ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচজনে। ভোরে সংঘটিত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে রায়গঞ্জের ভিটি এলাকার জাতীয় সড়কের ওপর একটি বালির লরি দাঁড়িয়েছিল। লরিটির খালাসি আহাত শেখ জানিয়েছেন, গাড়িটির তেল ফুরিয়ে যাওয়ার কারণেই সেটি রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় সামনে অন্য একটি দুর্ঘটনার কারণে একটি মাত্র লেন দিয়েই গাড়ি চলাচল করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে অতিরিক্ত গতিতে আসা একটি মুরগি বোঝাই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই লরিটির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে।
সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে আসেন এবং উদ্ধারাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। গ্যাস কাটার বা অন্যান্য উপায়ে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। গাড়িতে থাকা চারজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর একজনকে দ্রুত উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হলেও শেষরক্ষা হয়নি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, কুয়াশা বা কম দৃশ্যমানতা এর পেছনে দায়ী কি না, কিংবা গাড়ি দুটির গতি কত ছিল—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা লরিগুলির নিরাপত্তা এবং এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।