রাতের অন্ধকারে কেন তাড়াহুড়ো করে শেষকৃত্য? নানা পাটেকরের প্রয়াণের আসল কারণ ফাঁস করলেন ছেলে মল্লার

৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের অন্যতম কিংবদন্তি ও বহুমুখী প্রতিভাধর অভিনেতা নানা পাটেকর। গত বৃহস্পতিবার পুনের দোনজে গ্রামের ফার্মহাউসে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গান স্যালুটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য। তবে তারকা অভিনেতার শেষকৃত্য কেন রাতে সম্পন্ন করা হলো, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছিল। অবশেষে সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ খুললেন প্রয়াত অভিনেতার ছেলে মল্লার পাটেকর। সংবাদমাধ্যমের সামনে বাবার জীবনের শেষ মুহূর্ত, অন্ত্যেষ্টির কারণ এবং তাঁর অপূর্ণ স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন তিনি।
রাতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার আসল কারণ:
গোয়ার একটি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নানা পাটেকর। চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। রাতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কারণ ব্যাখ্যা করে ছেলে মল্লার জানান, দীর্ঘ দূরত্বের যাতায়াতের কারণেই মূলত এই দেরি হয়েছিল। তাঁর কথায়, “আমরা গোয়ায় ছিলাম। সেখান থেকে বাবার দেহ গ্রামের ফার্মহাউসে নিয়ে আসার কথা ছিল। ভেবেছিলাম অনেক তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাব। কিন্তু রাস্তায় অনেকটা সময় লেগে যায়।” তিনি আরও যোগ করেন, বাবা অত্যন্ত ভোরে মারা যাওয়ায় ইতিমধ্যেই অনেকটা সময় পেরিয়ে গিয়েছিল। তাই দেহ আর বেশি সময় ধরে রেখে দেওয়া চিকিৎসাগত ও অন্যান্য দিক থেকে ঠিক হতো না। বাধ্য হয়েই সূর্যাস্তের পর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়।
বাবার আদর্শ ও অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার:
বাবার সমাজসেবামূলক কাজগুলোকে এবার নিজে হাতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন মল্লার। নানা পাটেকরের আদর্শের কথা বলতে গিয়ে তাঁর ছেলে বলেন, “বাবা সবসময় বলতেন মানবতার জন্য একজোট হতে হবে এবং বিশ্বের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি সবসময় বিশ্বস্তরে চিন্তাভাবনা করতেন।” মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে জম্মু ও কাশ্মীর পর্যন্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নানা পাটেকরের গড়া সমাজসেবামূলক কাজগুলো ইতিমধ্যেই সচল রয়েছে। যোগ্য মানুষ ও বিশ্বস্তদের হাতেই তিনি সমস্ত দায়িত্ব সঁপে দিয়ে গিয়েছিলেন।
বাবার একটি বিশেষ অপূর্ণ স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মল্লার। তিনি জানান, “বাবা সবকিছু একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে চেয়েছিলেন। জীবনের বাকি সময়টা তিনি এমন একটা জায়গায় কাটাতে চেয়েছিলেন, যেখানে সমাজসেবার কাজে তাঁকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমি নিশ্চিত করব যাতে তাঁর অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পূর্ণ হয়। তাঁর স্বপ্ন এবং আমার স্বপ্ন মিলেমিশে মানুষের কল্যাণেই কাজ করবে।”
বৃহস্পতিবার দোনজে গ্রামে এই প্রবীণ অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন জ্যাকি শ্রফ, অনিল শর্মা, আনিস বাজমির মতো চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেও সশরীরে উপস্থিত থেকে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকবার্তা জানিয়েছেন সলমন খান, অজয় দেবগন এবং কমল হাসার মতো তারকারা। নানার প্রয়াণে এক যুগের অবসান ঘটল বলিপাড়ায়।