ভোটলুঠের অভিযোগে উত্তাল দিল্লি! জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিতে সোজা রাজধানী উড়ে গেলেন মমতা

ক্রমশ চড়ছে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন। রাজধানীর রাজপথে নেমেছে কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। সেই আন্দোলনে সংহতি জানাতে এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটচুরির জোরালো অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবারই বিকেলে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

দিল্লি সফর ও আন্দোলনের কর্মসূচি:
কলকাতা বিমানবন্দর ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, উৎসবের মরশুম ও পুজোর ব্যস্ততার মধ্যেও সাধারণ মানুষ যখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আওয়াজ তুলছেন, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই রাজনৈতিক দায়িত্ব। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাঁর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। তাঁর স্পষ্ট কথা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করা বা ভয় দেখানো একেবারেই বরদাস্ত করা যায় না।

ভোটলুঠ ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা:
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা এবং সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে কারচুপির প্রসঙ্গ টেনে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালিম্পং, চন্দননগর, রায়গঞ্জ থেকে শুরু করে কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের বাড়িতে হামলার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, “আগে কখনও এমন ঘটনা দেখেছেন? ভোটের আগেই কেউ কীভাবে বলে দিতে পারে যে কত ভোটে জিতবে? এতে স্পষ্টতই পরিকল্পিত রিগিং এবং ভোট লুঠ হয়েছে।”

এই প্রেক্ষাপটেই দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদের সুর চড়ানোর পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানান, “আমি বাংলার জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য দিল্লি যাচ্ছি। মাননীয় রাষ্ট্রপতির কাছেও সাক্ষাতের আবেদন জানিয়েছি।” পাশাপাশি, দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও কথা বলে এই জাতীয় ইস্যুটিতে বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *