ই-রিডার ও সস্তা বইয়ের ভিড়েও নিশ্চিহ্ন হচ্ছে পড়ার অভ্যাস! রিলস ও শর্টসের নেশায় মারাত্মক বিপদে আমাদের মস্তিষ্ক?

বর্তমানে আমাদের চারপাশ বই, পিডিএফ কিংবা ই-রিডারে ঠাসা। বই কেনার বা পড়ার উপাদানের কোনো অভাব নেই বললেই চলে। তবুও বর্তমান প্রজন্মে ধীরে ধীরে যেন অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে বই পড়ার চিরন্তন অভ্যাস। হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনের কারণে আমরা কি ক্রমশ পড়ার গভীর মনোযোগ ও ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি? সম্প্রতি এক চিন্তাশীল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রতিযোগী যখন রিলস ও ১ মিনিটের শর্টস
আগে যেসব তথ্য, ট্রাভেল স্টোরি বা রেসিপি মানুষ মনোযোগ দিয়ে কোনো প্রতিবেদন কিংবা বই পড়ে শিখত, এখন তা জায়গা করে নিয়েছে ১ মিনিটের ভিডিও, ইনস্টাগ্রাম রিলস কিংবা টিকটকে।
-
ভিডিওর সহজলভ্যতা: ভিডিও দেখতে মন দেওয়ার বিশেষ প্রয়োজন হয় না; শুধু ‘প্লে’ বাটন চাপলেই অলস মস্তিষ্কে তথ্য পৌঁছে যায়।
-
পড়ার মানসিক কষ্ট: বই পড়তে গেলে মন সংযোগ করতে হয়, শব্দের ফাঁকে ফাঁকে নিজের মতো করে দৃশ্যপট কল্পনা করতে হয়—যা ডিজিটাল দুনিয়ার প্রভাবে মানুষের কাছে কঠিন মনে হচ্ছে।
স্মার্টফোন ও ‘সোয়াইপ’ সংস্কৃতির প্রভাব
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘শর্ট-ফর্ম কনটেন্ট’ বা ছোট ভিডিও আমাদের ধৈর্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে যদি কোনো কনটেন্ট আকর্ষণীয় না মনে হয়, তবেই আঙুলের স্পর্শে তা ‘সোয়াইপ’ হয়ে যায়।
কিন্তু একটি বই বা উপন্যাসের চরিত্র বুঝতে কিংবা কাহিনির পটভূমি জমতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ পৃষ্ঠা পড়ার প্রয়োজন হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার এই দ্রুতগতির স্বাদের কারণে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রেখে বই পড়ার অভ্যাসকে আজকের প্রজন্ম “সময়সাপেক্ষ” বা “অহেতুক জটিল” বলে এড়িয়ে চলছে।
পড়ার বিকল্প কি শুধুই স্ক্রিন?
বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যা বইয়ের অভাব নয়, সমস্যা হলো ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ বা মনোযোগ ধরে রাখার স্থায়ী ক্ষমতা কমে যাওয়া। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিন স্ক্রোল করলেও কোনো ক্লান্তি আসে না, অথচ মাত্র ১০ পৃষ্ঠা বই পড়ার জন্য সময় মেলে না। সময় থাকতে আমাদের এই মানসিক অভ্যাসে সচেতন বদল না আনলে, আগামী দিনে গভীর চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তির ক্ষেত্র অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিন্তাবিদরা।