সৌদি আরবে সামরিক শক্তিবৃদ্ধি পাকিস্তানের! ‘মক্কা চুক্তি’র অধীনে আকাশে যুদ্ধবিমান, হুথিদের লক্ষ্য করে এয়ার স্ট্রাইক?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণাঙ্গনে এক নজিরবিহীন মোড়! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে অবশেষে সৌদির মাটিতে নিজেদের শক্তিশালী সেনা ও ফাইটার জেট মোতায়েনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। একই সাথে ঐতিহাসিক ‘মক্কা চুক্তি’ (Makkah Defence Pact)-কে কার্যকর করে হুথিদের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে শুরু হয়েছে যৌথ এয়ার স্ট্রাইক।

মক্কা চুক্তির জের: সৌদিতে পাকিস্তানি ফৌজ ও ফাইটার জেট

সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় সামরিক প্রতিরক্ষা সমঝোতা তথা ‘মক্কা চুক্তি’ অনুযায়ী এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চুক্তির মূল শর্তই হলো—তিন দেশের কোনো একটি আক্রান্ত হলে তাকে যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য করে ঐক্যবদ্ধ জবাব দেওয়া হবে। সম্প্রতি মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র স্থান এবং সৌদির সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হুথিদের একের পর এক আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সক্রিয় পদক্ষেপে নেমেছে ইসলামাবাদ।

সিএনএন (CNN)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক আধিকারিক লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী নিশ্চিত করে জানান, “আমাদের সেনা ইতিমধ্যেই সৌদির মাটিতে তাদের অবস্থান শক্ত করেছে।” মে মাসে প্রকাশিত সূত্রে জানা গিয়েছিল, পাকিস্তান প্রায় ৮,০০০ সেনা কর্মকর্তা, শক্তিশালী বিমান বিধ্বংসী HQ-9 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং একটি ক্ষিপ্রগতির JF-17 ফাইটার জেট স্কোয়াড্রন রিয়াদে পাঠিয়েছে।

আকাশপথে হামলা ও ড্রোন প্রতিরোধে সাহায্য

সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করার তাগিদে পাকিস্তানি ফৌজ সরাসরি ইয়েমেনের মাটিতে পা রেখে স্থলযুদ্ধে জড়াবে না। তবে আকাশপথে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, নজরদারি চালানো এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা রুখতে সৌদি বিমান বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তানের এয়ারফোর্স। হুথিদের লক্ষ্য করে যে সাম্প্রতিক বিধ্বংসী এয়ার স্ট্রাইক চালানো হয়েছে, সেখানেও পাকিস্তানি ফাইটার জেটের সরাসরি সহায়তা রয়েছে বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে দাবি।

তুর্কিয়ে এবং পাকিস্তানের জোট বাঁধায় সিঁদুরে মেঘ

শুধু পাকিস্তানই নয়, সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং বৈজ্ঞানিক সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছে তুর্কিয়েও। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল নোমান মাহমুদকে এই নবগঠিত মক্কা অলিয়েন্সের প্রথম সেক্রেটারি জেনারেল পদে মনোনীত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি-পাকিস্তান-তুর্কিয়ে-র এই অশুভ শক্তি প্রতিরোধক জোটের তৎপরতায় স্বাভাবিকভাবেই বড় ধরনের ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *