যুবভারতীতে মেগা ডার্বি যুদ্ধ! ডুরান্ড হারের বদলা নিতে মরিয়া বাগান, নাকি মরশুমের দ্বিতীয় খেতাব ছিনিয়ে নেবে ইস্টবেঙ্গল?

দুর্গাপুজোর আবহেই তিলোত্তমায় ফুটবলের মেগা রোমাঞ্চ! আইএফএ শিল্ডের ঐতিহ্যবাহী ফাইনালে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতীক্ষিত প্রতিদ্বন্দ্বী—ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ১২৬তম এই ঐতিহ্যের লড়াইকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে এখন উন্মাদনার পারদ চরমে। একদিকে যেমন ডুরান্ড কাপ ফাইনালের হারের বদলা নিয়ে ট্রফি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ সবুজ-মেরুন শিবিরের, তেমনই অন্যদিকে মরশুমের দ্বিতীয় বড় খেতাব জিতে সমর্থকদের আগাম শারদীয় উপহার দিতে মরিয়া লাল-হলুদ ব্রিগেড।

মুখোমুখি পরিসংখ্যানে কে এগিয়ে?

আইএফএ শিল্ডের ইতিহাসে দুই প্রধানের দ্বৈরথের রেকর্ড লাল-হলুদের পাল্লাকেই ভারী রাখছে। ঐতিহ্যের এই প্রতিযোগিতায় এখনও পর্যন্ত ৪২ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। এর মধ্যে লাল-হলুদ জিতেছে ২১টি ম্যাচে, অন্যদিকে সবুজ-মেরুন দল জয় পেয়েছে ৮টি ম্যাচে। বাকি ১৩টি ম্যাচ অমীমাংসিত বা ড্র ছিল। তবে নক-আউট ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে মাঠের লড়াইয়ে আজ কোনো দলকেই এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ কোচেরা।

কৌশলের লড়াই: হাবাস বনাম ডিম্পেরিস

লাল-হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের হুঙ্কার—কাজ ৯০ মিনিটেই শেষ করতে চান, পেনাল্টি শুটআউটের ঝুঁকি নেবেন না। সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৭-২ ব্যবধানে উড়িয়ে ফাইনালে আসা ইস্টবেঙ্গল আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে। অন্যদিকে মোহনবাগান কোচ পানাগিওটিস ডিম্পেরিস চাইছেন রক্ষণে আঁটসাঁট হয়ে প্রতিআক্রমণে আঘাত হানতে। আন্তর্জাতিক ডিউটি সেরে ফেরা জাতীয় দলের তারকা সাহাল আব্দুল সামাদ এবং অভিষেক টেকচাম সিংকে শুরু থেকেই প্রথম একাদশে নামিয়ে বড় চমক দিয়েছে মোহনবাগান।

সল্টলেক স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমজমাট লড়াই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই দলের স্ট্রাইকারদের প্রতিটি আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে উঠছে চিৎকারের গর্জন। পুজোর মুখে কে হাসবে শেষ হাসি—ডুরান্ডের প্রতিশোধ নিয়ে কি সবুজ-মেরুন আবিরে রঙিন হবে যুবভারতী, নাকি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে আবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে ইস্টবেঙ্গল? নজর এখন যুবভারতীর সবুজ গালিচায়!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *