হাতে রাইফেল পেলেই হয়ে যেতেন ‘বাধ্য ছাত্র’! জাতীয় মঞ্চে মেডেল জেতা নানা পাটেকরের এই গোপন কীর্তি জানেন?

রুপোলি পর্দায় তিনি ‘বিপ্লবী’, রুক্ষ এবং আপসহীন এক নাম। অভিনয়ে তাঁর দক্ষতা এবং সংলাপ পরিবেশনের তীব্রতা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস গড়েছে। কিন্তু ক্যামেরার সামনে যিনি দাপুটে ‘সুপারস্টার’, ক্যামেরা বন্ধ হতেই সেই একই মানুষ হাতে সাইলেন্সার লাগানো রাইফেল তুলে নিয়ে হয়ে উঠতেন একদম সাধারণ, শান্ত ও বাধ্য এক ছাত্র! হ্যাঁ, বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের এই অচেনা কিন্তু রোমাঞ্চকর দিকটির কথা হয়তো অনেকেরই অজানা।

সিনেমার পাশাপাশি রাইফেল শুটিংয়ে নানার প্রেম ছিল গভীর ও অগাধ। তিনি কেবল শখের বশে শুটিং করতেন না, বরং পেশাদার শুটারদের মতো নিয়মিত কঠোর অনুশীলন করতেন। এমনকি জাতীয় স্তরের রিয়েল শুটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জেতেন মেডেলও!

ফায়ারিং রেঞ্জে নেই কোনো স্টারডম:

অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত অলিম্পিয়ান শুটার সঞ্জীব রাজপুত ও অঞ্জলি ভাগবতের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে শুটিং রেঞ্জে নানার অকৃত্রিম রূপ। সঞ্জীব জানান, পুনেতে অনুশীলনের সময় একদিন নানা নিজেই তাঁর কাছে এসে অত্যন্ত বিনীতভাবে বলেছিলেন, “মুঝে ভি সিখনা হ্যায় (আমিও শিখতে চাই)।” তখন তিনি ষাটের কাছাকাছি বয়সের প্রবীণ ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা, অথচ রাইফেল প্রোন (Rifle Prone) ক্যাটাগরিতে ভালো পারফর্ম করার জন্য প্রতিদিন রাত ৭টায় একা ফাঁকা রেঞ্জে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করতেন। উধাও হয়ে যেত সমস্ত ‘স্টারগিরি’।

নিশানায় জিতেছিলেন জাতীয় মেডেল:

মেধাবী এই অভিনেতা তাঁর পরিশ্রমের পুরস্কারও পেয়েছিলেন। মহারাষ্ট্র রাজ্য শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে শুরু করে গুরুগ্রামে আয়োজিত জাতীয় শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে (National Shooting Championship) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পদক জেতেন তিনি। বিশেষ করে ৩০০ মিটার রাইফেল শুটারে নানার পারদর্শিতা দেখে চমকে গিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক স্তরের পেশাদার শুটাররাও।

নতুন শুটারদের মসিহা:

কেবল নিজের শুটিং অনুশীলনেই থমকে ছিলেন না নানা। ভারতীয় শুটারদের আর্থিক অনটনের কথা জানতে পেরে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অঞ্জলি ভাগবতের মতো উদীয়মান খেলোয়াড়দের। নিজস্ব অর্থ দিয়ে অঞ্জলিকে দেন জীবনের প্রথম এয়ার রাইফেল এবং কোরিয়া থেকে আনা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শুটিং কিট। পরে তো এমনও ঘোষণা করেছিলেন, জাতীয় স্তরের চারজন শুটারকে স্পনসর করার জন্য তিনি আলাদা করে সিনেমা করবেন!

‘আব তাক ছাপান্ন’ ছবিতে পুলিশি এনকাউন্টারের দৃশ্যে বন্দুক হাতে নানা পাটেকরকে আমরা যতটা হিংস্র ও নিখুঁত দেখেছি, আসল জীবনে রাইফেল হাতে তিনি ছিলেন ততটাই সুশৃঙ্খল ও মেডেলজয়ী এক খাঁটি ক্রীড়াবিদ। অভিনয়ের বাইরে ফায়ারিং রেঞ্জের এই নিশব্দ অধ্যায় তাঁকে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরকালের জন্য এক অনন্য ব্যক্তিত্বের মর্যাদায় স্থান দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *