“মেট্রো বিপর্যয়ে ৭ বছর ধরে ভিটেছাড়া!”-পুজোয় বউবাজারের কান্না মুছে ফিরল নতুন ঠিকানায়?

৭ বছরের দীর্ঘ অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে নিজেদের মাথার ওপর ছাদ ফিরে পাচ্ছেন বউবাজারের মেট্রো প্রকল্পের জেরে গৃহহীন হওয়া মানুষগুলো। দুর্গা পিতুরি লেন, স্যাঁকরা পাড়া লেন, মদন দত্ত লেন কিংবা হিদারাম ব্যানার্জি স্ট্রিট—এই নামগুলো শুনলেই আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে পুরনো আমলের বাড়িগুলোর গায়ে চওড়া ফাটল আর রাতারাতি এক কাপড়ে ভিটে ছাড়ার সেই মর্মান্তিক দৃশ্য। দীর্ঘ ৭ বছর হোটেল কিংবা প্রশাসনের দেওয়া সাময়িক আস্তানা বদল করে অবশেষে তাঁরা ফিরছেন নিজেদের চিরচেনা মাটিতে, তবে এবার রূপ বদলেছে তাঁদের বাসস্থান—পুরোনো ধসে যাওয়া বাড়ির জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে আরও আধুনিক ও পাকাপোক্ত নতুন বাড়ি।

৭ বছরের যন্ত্রণাদায়ক অতীত

সময়টা ২০১৯ সালের অগাস্ট মাস। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের শিয়ালদা মেট্রো স্টেশন এবং সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ চলাকালীন আচমকাই বউবাজারের একের পর এক বাড়িতে চওড়া ফাটল দেখা দেয়। প্রশাসনের নির্দেশে দুর্গা পিতুরি লেন ও স্যাঁকরা পাড়া লেনের পরিবারগুলিকে তড়িঘড়ি ঘর ছাড়তে হয়। শুধু ফাটলই নয়, আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোর কাজের জেরে হুড়মুড় করে ধসে পড়ে একাধিক বাড়ি। চোখের সামনে নিজের জন্মভিটে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে দেখেন বাসিন্দারা। চোখের জলে শেষ সম্বলটুকু সম্বল করে হোটেল বা KMRCL-এর দেওয়া ভাড়া বাড়িতে ঠাঁই হয় তাঁদের। কেউ বেলেঘাটা তো কেউ অন্য প্রান্তে—ভিটে হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে এভাবেই কেটে গেছে দীর্ঘ সাতটি বছর। এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও কম জলঘোলা বা আন্দোলন হয়নি। শেষ পর্যন্ত মেট্রো কর্তৃপক্ষ ওই একই স্থানে নতুন বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে প্রতিবাদের সুর কিছুটা নরম হয়।

পুজোর মুখে প্রথম ধাপে ঘরের চাবি হস্তান্তর

তবে এবার দুর্গাপুজোর আনন্দকে দ্বিগুণ করে দিয়ে একাধিক পরিবার ফিরে পেল তাদের বউবাজারের পৈতৃক ভিটে। স্থানীয় কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে জানান, প্রথম দফায় ১৭-১৮টি পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ৫-৬ জন দোকানদারকেও ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের ব্যবসা করার জায়গা, যাঁদের দোকান মেট্রোর কাজের জেরে সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছিল।

কাউন্সিলর আরও জানান, মোট ২৭টি নতুন বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে এবং বাকিদের কাজও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। আগামী বছর পুজোর আগেই সমস্ত ভিটেহারা পরিবার নিজেদের নতুন বাড়ি ফিরে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে এখনও প্রায় ২৫টি পরিবার KMRCL-এর দেওয়া সাময়িক আবাসে থাকলেও, খুব শীঘ্রই তাঁদেরও বউবাজারে ফিরিয়ে আনা হবে। এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। উল্লেখ্য, মেয়র ফিরহাদ হাকিম ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে মেট্রো রেল কর্পোরেশনের সঙ্গে বৈঠক করে ২০২৬ সালের পুজোর আগেই গৃহহীনদের ঘরে ফেরানোর যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, আজ তা বাস্তবে রূপ নিতে চলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বউবাজারের মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *