ভারতে স্টারলিঙ্ক আটকে কার লাভ? মাস্কের মারাত্মক অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কড়া জবাব কেন্দ্রের!

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই দৌড়ঝাঁপ করছে এলন মাস্কের সংস্থা ‘স্টারলিঙ্ক’ (Starlink)। তবে দীর্ঘদিন কেটে গেলেও ভারতে বাণিজ্যিক ছাড়পত্র পায়নি তারা। এই পরিস্থিতির মাঝেই এবার আন্তর্জাতিক স্তরে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দিলেন টেসলা ও এক্স (X)-এর মালিক এলন মাস্ক। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, ভারতে কিছু “অলিগার্ক” বা প্রভাবশালী কোটিপতি ব্যবসায়ী একচেটিয়া ব্যবসা বা একচ্ছত্র আধিপত্য (Monopoly) বজায় রাখতে স্টারলিঙ্ককে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। মাস্কের এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই কড়া জবাব দিয়ে আসরে নেমেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

“আপনারা আন্দাজ করতেই পারছেন তাঁরা কারা…”

বিতর্কের সূচনা এক্স-এর (পূর্বতন টুইটার) একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। ‘DogeDesigner’ নামের একটি হ্যান্ডেল থেকে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানানো হয় যে, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ভারতের প্রায় ১১,২৫৬টি গ্রামে এখনও ৪জি (4G) ইন্টারনেট কভারেজ পৌঁছায়নি।

সেই পোস্টের জবাবেই ক্ষোভ উগরে দেন প্রযুক্তি জগতের এই ধনকুবের। এলন মাস্ক লেখেন:

“দুর্ভাগ্যবশত, কিছু অলিগার্ক (প্রভাবশালী কোটিপতি) ভারতবাসীর ওপর নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বা ‘চোকহোল্ড’ বজায় রাখার জন্য আমাদের পথ আটকাচ্ছে। আপনারা আন্দাজ করতেই পারছেন তাঁরা কারা… এটা ভারতের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে একটা অপরাধ!”

মাস্কের এই তির্যক মন্তব্য সরাসরি ভারতের টেলিকম জগতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলির দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

                  ┌─────────────────────────────────────────┐
                  │   ভারতে স্টারলিঙ্ক প্রবেশে বিলম্ব      │
                  └────────────────────┬────────────────────┘
                                       │
            ┌──────────────────────────┴──────────────────────────┐
            ▼                                                     ▼
┌───────────────────────────┐                         ┌───────────────────────────┐
│     এলন মাস্কের দাবি     │                         │   কেন্দ্রীয় সরকারের জবাব  │
├───────────────────────────┤                         ├───────────────────────────┤
│ • অলিগার্কদের মনোপোলি     │                         │ • অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন │
│ • ইন্টারনেট আটকে রাখার চক্রান্ত│                    │ • নিরাপত্তার নিয়ম সবার জন্য │
│ • জনগণের বিরুদ্ধে 'অপরাধ' │                         │ • শর্ত মানলেই স্পেকট্রাম   │
└───────────────────────────┘                         └───────────────────────────┘

২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব কেন্দ্রের: ‘অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’

মাস্কের এমন গুরুতর অভিযোগের পর নীরব থাকেনি নয়াদিল্লি। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)-র তরফে এক বিবৃতি জারি করে প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়াকে জানানো হয়, মাস্কের এই অভিযোগ একদমই ভিত্তিহীন এবং অবাস্তব।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়:

  • কঠোর নিরাপত্তা নীতি: ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে গেলে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু কঠোর নিয়ম ও শর্ত মেনে চলতে হয়।

  • সবার জন্য সমান নিয়ম: দেশের সুরক্ষার সঙ্গে কোনো আপস করা সম্ভব নয়। স্টারলিঙ্ক হোক বা অন্য কোনো দেশীয় বা বিদেশী সংস্থা—প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম ও ছাড়পত্র পাওয়ার আগে সকলকেই একই নিরাপত্তা বিধি পার করতে হবে।

  • আইনি প্রক্রিয়া: নিরাপত্তার সমস্ত শর্ত পূরণ হলে তবেই স্পেকট্রাম বণ্টনের পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব, যা এই মুহূর্তে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে ভারতে উপগ্রহভিত্তিক দ্রুতগতির ইন্টারনেট আনার চেষ্টা চালালেও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চূড়ান্ত ছাড়পত্র না মেলায় এখনও সার্ভিস চালু করতে পারেনি স্টারলিঙ্ক। তার মাঝেই মাস্ক ও কেন্দ্রের এই সরাসরি সংঘাত ভারতীয় টেলিকম বাজারে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *