নানার মৃত্যুর পর বিমানবন্দরে বসেই ভিডিও বার বার্তা! ‘শয়তান’ সম্বোধন করে সমবেদনা তনুশ্রীর

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে যখন গোটা বিনোদন জগতে শোকের ছায়া, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক ও বিতর্কিত প্রতিক্রিয়া দিয়ে সংবাদ শিরোনামে উঠে এলেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। ২০১৮ সালে ভারতে আছড়ে পড়া বিখ্যাত ‘#MeToo’ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এই দুজন। বৃহস্পতিবার নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর তনুশ্রীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে মাত্র ৭৫ বছর বয়সে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘ক্রান্তিবীর’ খ্যাত এই প্রবীণ অভিনেতা। তাঁর প্রয়াণে চলচ্চিত্র জগতের একাধিক ব্যক্তিত্ব গভীর শোক প্রকাশ করলেও, তনুশ্রী দত্তের প্রতিক্রিয়া সামাজিক মাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিমানে ওঠার আগে বিমানবন্দরে বসে কী বললেন তনুশ্রী?
এক পেশাগত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লখনউ যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে বসে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্সজয়ী এই অভিনেত্রী। ভিডিওতে তিনি সরাসরি নানা পাটেকরের নাম উচ্চারণ না করলেও স্পষ্ট ভাষায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
তনুশ্রী বলেন, “আমি খবরটা পেয়েছি। কিন্তু আজ আমার কাজের দিন, লখনউতে একটি বড় অনুষ্ঠান রয়েছে তাই নিজের কাজেই মনোনিবেশ করতে চাই। ঘটনাটা এমন একটা দিনে ঘটল যা আমাকে এক অদ্ভুত অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে।”
সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের অতিরিক্ত মনোযোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার নিজের কাজ নিয়ে লাইভ করার কথা ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সব আলো অন্যদিকে ঘুরে যাবে। আমি ভাবছিলাম ঠিক কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত। বলা যায়, ‘একজন শয়তানের মৃত্যু হয়েছে’। তবে যা-ই হোক, তাঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।”
২০১৮-র সেই ঝড় ও মেটূ (#MeToo) বিতর্ক
২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার একটি আইটেম গানের শুটিং সেট থেকে এই আইনি ও সামাজিক বিবাদের সূত্রপাত। তনুশ্রী অভিযোগ করেছিলেন, গানের শুটিং চলাকালীন নানা পাটেকর তাঁর অত্যন্ত কাছে চলে আসেন এবং নাচের স্টেপ শেখানোর বাহানায় অশালীনভাবে স্পর্শ করেন। এরপর সেট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তনুশ্রীর গাড়িতে রাজনৈতিক কর্মীদের দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার ১০ বছর পর, ২০১৮ সালে তনুশ্রী একটি সাক্ষাৎকারে নতুন করে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আনলে পুরো দেশজুড়ে ‘মি টু’ আন্দোলনের আগুন জ্বলে ওঠে। যদিও নানা পাটেকর শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য
চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার সকালে গোয়ার মণিপাল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নানা পাটেকর। মারাঠি থিয়েটার ও হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা মাথায় রেখে পুনেতে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার।