৫০ বছর ধরে এই যন্ত্রণা কেউ দেখেনি! ভাঙন ও বন্যাকবলিত গৃহহীনদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

গঙ্গা নদীর ভয়াবহ ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মালদাবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর মালদার মানিকচক বিএসএস হাইস্কুলের মাঠে আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে জেলার বন্যা ও ভাঙনকবলিত হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য ও ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন তিনি।

এদিন অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে একটি বোতাম টিপে সরাসরি ‘ডিবিটি’ (Direct Benefit Transfer)-র মাধ্যমে ২৪,৫৯৫ জন ক্ষতিগ্রস্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গৃহ নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠানোর সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

কার অ্যাকাউন্টে কত টাকা পৌঁছবে?

বন্যা ও নদী ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে:

  • সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি: যাঁদের বাড়ি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানো হচ্ছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।

  • আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি: যাঁদের বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁরা পাবেন ৯০ হাজার টাকা করে।

অর্থ সাহায্যের পাশাপাশি দুর্গত মানুষদের হাতে ত্রাণের চাল-ডাল এবং আসন্ন দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে বিশেষ পুজোর উপহারও তুলে দেন তিনি।

“শুধু ভাষণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করব না”, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

মানিকচকের মঞ্চ থেকে আগের সরকারগুলোকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত ৫০ বছর ধরে এই অঞ্চলের দুর্গত মানুষদের কথা কেউ গভীরভাবে ভাবেনি। তাঁদের কষ্ট দূর করতে কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কিন্তু আমি শুরু থেকেই এই মানুষদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে কাজ করে আসছি।”

কলকাতা থেকে মানিকচক পৌঁছানোর সময় আকাশপথের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, “কেউ যেন মনে না করেন মুখ্যমন্ত্রী শুধু ভাষণ দিয়ে তাঁর দায়িত্ব শেষ করবেন। হেলিকপ্টারে আসার সময় টানা ২০ মিনিট ধরে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম, রাস্তা এবং বাঁধের পরিস্থিতি নিজে খতিয়ে দেখেছি। নিজের মোবাইল ফোনে তার ভিডিও তুলে রেখেছি। এই নিত্যদিনের যন্ত্রণা থেকে আপনাদের স্থায়ী মুক্তি দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়েই আজ আমি ফিরে যাচ্ছি।”

প্রশাসনিক বৈঠকের নির্দেশ

এদিনের ত্রাণ বণ্টন কর্মসূচির পরপরই রতুয়া ও মানিকচকের স্থায়ী গঙ্গা ভাঙন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে একটি বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী। গঙ্গা নদী উপকূলবর্তী মানুষদের দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহহীন হওয়ার ভয় থেকে রক্ষা করতে মাস্টারপ্ল্যান ও প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *