খড়গপুরে স্কুলছাত্রকে গুলি করার নেপথ্যে ভয়ঙ্কর মেগা টুইস্ট! ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফাঁস আসল সত্য়ি

রেলশহর খড়গপুরে দিনেদুপুরে স্কুটি আরোহী এক স্কুলছাত্রকে লক্ষ্য করে শুটআউটের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এল চাঞ্চল্যকর মোড়। দুষ্কৃতীদের অতর্কিত হামলার নাটক যে আসলে একটি সাজানো গল্প ছিল, তা স্পষ্ট করে দিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বাইরের কোনো গ্যাং বা দুষ্কৃতী হামলা চালায়নি, বরং বন্ধুর বাড়িতে থাকা বেআইনি বন্দুক দেখতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ট্রিগারে চাপ পড়ে নিজেই গুলিবিদ্ধ হয়েছে অক্ষয় ঝা নামের ওই ছাত্র।

ইতিমধ্যেই ঘটনার ভয়াবহতা ধামাচাপা দেওয়া ও মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করার অভিযোগে অক্ষয়ের তিন বন্ধু—সাগর কুমার (২৩), কোলা যোগেশ্বর রাও ওরফে চিন্টু (২৩) এবং বিশাল জানা (২২)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

যেভাবে সাজানো হয়েছিল শুটআউটের গল্প

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে। খড়গপুরের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় স্কুটি চালিয়ে যাওয়ার সময় অক্ষয় গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তার বন্ধু সাগর দাবি করেছিল, স্থানীয় একটি দোকানে টিফিন করতে যাওয়ার সময় পিছন থেকে দুই দুষ্কৃতী তাঁদের ধাওয়া করে অতর্কিতে গুলি চালিয়ে চম্পট দেয়। এই খবর ছড়াতেই রেলশহরে গ্যাং-ওয়ারের আতঙ্ক তৈরি হয়।

তবে তদন্তে নেমে পুলিশের পাঁচ সদস্যের টিম সাগরের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পায়। তাছাড়া দুষ্কৃতী হামলার কথা বলা হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা সেই মুহূর্তে কোনো গুলির শব্দ পাননি বলে জানান। সাগরের কল ডিটেইলস এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতেই আসল ঘটনা সামনে চলে আসে।

পিস্তল দেখতে গিয়ে কীভাবে ঘটল বিপত্তি?

পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্ত সাগরের বাবা প্রসাদ কুমারের কাছে একটি পিস্তল ছিল। বছর কয়েক আগে প্রসাদ নিজে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে আগ্নেয়াস্ত্রটি বাড়িতেই পড়েছিল। সম্প্রতি সেটি খুঁজে পায় সাগর। বুধবার সকালে বন্ধু অক্ষয়কে সেই পিস্তলটি দেখাতে নিজের বাড়িতে ডেকে আনে সে।

ঘটনার সময় সাগর শৌচাগারে গেলে অক্ষয় পিস্তলটি হাতে নিয়ে পরীক্ষা করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই অসাবধানতাবশত তার হাত লেগে ট্রিগার চেপে যায় এবং গুলি গিয়ে লাগে অক্ষয়ের শরীরে।

আতঙ্ক ও নাটক সাজানোর চক্রান্ত

ঘর রক্তে ভেসে যেতেই চরম আতঙ্কে পড়ে যায় সাগর। নাবালক অক্ষয়কে বাঁচাতে এবং পুরো বিষয়টিকে শুটআউট বলে চালিয়ে দিতে তড়িঘড়ি অন্য বন্ধুদের খবর দেয় সে। তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে অক্ষয়কে প্রথমে স্থানীয় খড়গপুর রেল হাসপাতালে এবং পরে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু পুলিশের টানা জেরার মুখে অবশেষে ভেঙে পড়ে সাগর এবং স্বীকার করে নেয় পুরো সাজানো ঘটনাটি।

জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, “গুলি ইচ্ছাকৃতভাবে চালানো হয়নি, ভুলবশত ট্রিগার চেপে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।” পাশাপাশি জেলায় গ্যাং-সংক্রান্ত কোনো অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি বৈধ কি না, এবং এই চক্রে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *