রাস্তা পরিদর্শনের সময় আপ কর্মীকে সপাটে চড়! দিল্লি হাই কোর্টের নোটিশের মুখে মন্ত্রী প্রবেশ ভার্মা

রাস্তা পরিদর্শনের সময় এক আম আদমি পার্টির (AAP) কর্মীকে চড় মারা এবং শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগে এবার দিল্লি সরকারের মন্ত্রী প্রবেশ সাহেব সিং ভার্মার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল আদালত। আপ কর্মী সাহেব সিংয়ের দায়ের করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট দিল্লি পুলিশ এবং মন্ত্রী প্রবেশ ভার্মাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ জারি করেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের জন্য যথাযথ পুলিশি সুরক্ষার আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই আপ কর্মী।
মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি শচীন দত্ত দিল্লি পুলিশকে একটি অ্যাকশন টেকেন বা অবস্থা-প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী নভেম্বর মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। যদিও বিবাদীর পক্ষের আইনজীবী এই আবেদনটিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে আদালতে তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
ঠিক কী ঘটেছিল গত ২৭ সেপ্টেম্বর?
আবেদনে আপ কর্মী সাহেব সিং অভিযোগ করেছেন যে, গত ২৭শে সেপ্টেম্বর পশ্চিম দিল্লিতে একটি রাস্তা নির্মাণের কাজ পরিদর্শনের সময় দিল্লি সরকারের মন্ত্রী প্রবেশ সাহেব সিং ভার্মা তাঁকে প্রকাশ্যে চড় মারেন এবং বেধড়ক মারধর করেন। সাহেব সিংয়ের দাবি, তিনি স্থানীয় আপ বিধায়ক জারনাইল সিংয়ের সঙ্গে আউটার রিং রোডের নির্মাণকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ত্রুটির প্রতিবাদ করতে করতে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময়ই মন্ত্রী প্রবেশ ভার্মা ও তাঁর সঙ্গীরা সেখানে উপস্থিত হন।
সাহেব সিংয়ের আরও অভিযোগ, তাঁকে মারধর ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করা তাঁর মোবাইল ফোনটি জোর করে কেড়ে নিয়ে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হয়। এমনকি এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁকে শারীরিক নিগ্রহের সময় তাঁর গোপনাঙ্গেও আঘাত করে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ও আদালতের দ্বারস্থ:
এই ঘটনার পর সাহেব সিং বিকাশপুরী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির (বর্তমানে BNS) ১১৫(২) ধারার অধীনে একটি সাধারণ নন-কগনিজেবল রিপোর্ট বা এনসিআর (NCR) দায়ের করেই দায় সারে। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর অভিযোগে থাকা সমস্ত গুরুতর বিষয় এবং প্রকৃত তথ্য এনসিআর-এ जानबूझ করে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
এরপর থেকেই লাগাতার হুমকি ও ভীতিপ্রদ বার্তা পাওয়ার কারণে নিজের ও পরিবারের জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই আপ কর্মী। এই পরিস্থিতিতে সিসিটিভি ফুটেজ, ইলেকট্রনিক প্রমাণ এবং পুলিশের ভূমিকা পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখার জন্য একজন প্রাক্তন হাইকোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন ও বিচার বিভাগীয় তত্ত্বাবধানে তদন্ত কমিটি গঠনের অনুরোধ জানিয়েছেন সাহেব সিং। আদালতের এই হস্তক্ষেপে এখন পুরো বিষয়টি কোন মোড় নেয়, সেটাই দেখার।