পলাতক জেলার লুকিয়েছিলেন বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে! শেষরক্ষা না হওয়ায় আজমের জেলে ফিরলেন কোন চাঞ্চল্যকর কান্ডে?

আইনের শাসনকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জেলবন্দীদের দিয়ে জোর করে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থালির কাজ করানোর চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন আজমের কেন্দ্রীয় কারাগারের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত নারী জেলার দিব্যা চৌধুরী। দীর্ঘ দুই মাস ধরে আত্মগোপন করে থাকা এই বরখাস্ত হওয়া জেলারকে কোটার একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে পাকড়াও করে পুলিশ। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে নাটকীয় দিক হলো, গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে সেই দিব্যা চৌধুরীকেই বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে ঠিক সেই আজমের কেন্দ্রীয় কারাগারেই, যেখানে একসময় তিনি দম্ভ ও ক্ষমতার সঙ্গে জেলার পদে কর্মরত ছিলেন।
ঠিক কী ঘটেছিল চলতি বছরের ১২ জুলাই?
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৬ সালের ১২ই জুলাই। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত নারী জেলার দিব্যা চৌধুরী এবং মহিলা প্রহরী সোনিয়া চৌধুরী মিলে দুজন সাজাপ্রাপ্ত মহিলা বন্দীকে দিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া কাজ করানোর এক অদ্ভুত ফন্দি আঁটেন। কোনো ধরনের আইনি অনুমতি বা কারাগারের অফিশিয়াল নথিপত্রে কোনো রকম এন্ট্রি না রেখেই কিরণ ও সানা নামের দুই বন্দীকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে জেলের বাইরে নিয়ে যান দিব্যা। জেলের মূল ফটকে দায়িত্বে থাকা মহিলা কর্মীরা এই নথিবিহীন প্রস্থানের তীব্র প্রতিবাদ জানালে, অভিযুক্ত জেলার ও প্রহরী উল্টে তাঁদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং হুমকি দেন।
এরপর ওই দুই বন্দীকে সোজা আজমেরের এআরজি সিটি-র নিজস্ব ব্যক্তিগত ফ্ল্যাটে নিয়ে যান দিব্যা চৌধুরী। সেখানে ঘর পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে রান্না ও অন্যান্য গৃহস্থালির সমস্ত কাজ করানো হয় তাঁদের দিয়ে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চারদিকে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয় এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তড়িঘড়ি ওই দুই বন্দীকে কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।
দুই মাস ধরে পলাতক ও সাইবার সেলের জালে বন্দি:
এই লজ্জাজনক ঘটনার পর বিভাগীয় তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় জেলার দিব্যা চৌধুরী ও মহিলা কনস্টেবল সোনিয়া চৌধুরীকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের সময় দিব্যার সদর দপ্তর বিকানের এবং সোনিয়ার যোধপুর নির্ধারিত হলেও, তাঁরা কেউই কাজে যোগ না দিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াতে শুরু করেন। এরপর গত ৫ই আগস্ট আজমের সেন্ট্রাল জেলের সুপারিনটেনডেন্টের রিপোর্টের ভিত্তিতে সিভিল লাইন্স থানায় একটি মামলা (নম্বর ২০৯) রুজু করা হয়।
আজমেরের এসপি হর্ষবর্ধন আগরওয়ালের কঠোর নির্দেশে, এএসপি হিমাংশু জাঙ্গিড এবং ডিএসপি (সিও নর্থ) শিবম জোশীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়। সাইবার সেলের সহায়তায় প্রযুক্তিগত প্রমাণ, মোবাইল ডেটা এবং সিসিটিভি ফুটেজ নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে যে অভিযুক্ত বরখাস্ত জেলার কোটার একটি গোপন ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রয়েছেন। এরপরই সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।
পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি:
পুরো ঘটনাটি নিয়ে সিও নর্থ (আজমের) শিবম জোশী জানিয়েছেন, “আজমের মহিলা কারাগারের তৎকালীন জেলার দিব্যা চৌধুরী এবং মহিলা প্রহরী সোনিয়া, কর্মীদের স্পষ্ট বিরোধিতা সত্ত্বেও কারাগার থেকে বেআইনিভাবে দুইজন আটক বন্দীকে বাইরে নিয়ে যান। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) প্রাসঙ্গিক ধারা এবং কেন্দ্রীয় কারাগার আইনের ৪২ ধারার অধীনে মামলা দায়ের করে তদন্ত চলছে। প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে গতকাল কোটা থেকে দিব্যা চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে এই মামলার অপর সহ-অভিযুক্ত মহিলা প্রহরী সোনিয়ার খোঁজেও তল্লাশি চলছে এবং খুব শীঘ্রই তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।”