সাদা না কি বাদামি ডিম—কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর? জানুন বাজারের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম একটি অত্যন্ত সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাবার. তবে বাজার থেকে ডিম কিনতে গেলেই ক্রেতাদের মনে চিরকালীন একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে—সাদা ডিম ভালো, না কি বাদামি ডিম বেশি স্বাস্থ্যকর? দীর্ঘকাল ধরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে, বাদামি ডিমে পুষ্টিগুণ বেশি থাকে এবং এটি তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রচলিত ধারণার কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, ডিমের খোসার রং কখনোই তার পুষ্টিগুণ নির্ধারণ করে না। মূলত কোন প্রজাতি বা জাতের মুরগি ডিমটি পাড়ছে, তার ওপর নির্ভর করেই খোসার রং নির্ধারিত হয়। সাদা ডিম ও বাদামি ডিম দেওয়া মুরগির জাত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু খোসার রং বদলালেই ডিমের ভেতরের পুষ্টিগুণ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় না।

সাদা বা বাদামি—উভয় ধরনের ডিমেই রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ। সাধারণত একটি বড় সাইজের ডিমে প্রায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এছাড়া ভিটামিন এ, বি-১২, ডি, রিবোফ্ল্যাভিন, সেলেনিয়াম, ফসফরাস এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও ডিমে ভরপুর মাত্রায় পাওয়া যায়। হার্ভার্ডের পুষ্টিবিষয়ক তথ্যেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, বাদামি ডিম সাদা ডিমের তুলনায় বেশি পুষ্টিকর নয়।

অনেক সময় বাজারে দেখা যায় বাদামি ডিমের দাম সাদা ডিমের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে এর সঙ্গে পুষ্টিগুণের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। সাধারণত বাদামি ডিমকে ‘প্রিমিয়াম’ বা বেশি স্বাস্থ্যকর পণ্য হিসেবে বাজারজাত করা হয়, যার ফলে ক্রেতাদের মনে এই ধরনের ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়।

আসলে ডিমের পুষ্টিমান নির্ধারণে খোসার রঙের চেয়ে মুরগির খাদ্যাভ্যাস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুরগির খাবারে বিশেষ পুষ্টি উপাদান যুক্ত করা হলে সেই ডিমে ওমেগা-৩ বা নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ডিম কেনার সময় শুধু খোসার রং দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং ডিম কতটা তাজা, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না, খোসা অক্ষত আছে কি না এবং প্যাকেটের মেয়াদ কত দিন—সেগুলোর ওপর নজর দেওয়া বেশি জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *