জনপ্রিয়তাই কাল! যুবদের প্রভাবিত করার আশঙ্কায় গ্রেফতার হওয়া কাশ্মীরের বাসিন্দাকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

এলাকায় মানুষের কথা শোনা এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর প্রভাব থাকা—সাধারণত এই গুণগুলিকে সমাজসেবা বা সম্মানের চোখে দেখা হলেও, জম্মু-কাশ্মীরে তা অনেক সময় ডেকে আনে চরম বিপদ। শোপিয়ানের বাসিন্দা মাশুক আহমেদ শাহের ক্ষেত্রে ঠিক এমনই ঘটনা ঘটেছিল। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বস্তি মিলেছে। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট বেআইনিভাবে আটক রাখার অভিযোগে মাশুক আহমেদ শাহকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের অত্যন্ত বিতর্কিত ‘পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট’ বা জন সুরক্ষা আইনের একটি বিশেষ ধারার বলে পুলিশ মাশুক আহমেদ শাহকে গ্রেফতার করেছিল। শোপিয়ানের ডেপুটি কমিশনারের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানায় দাবি করা হয়েছিল যে, ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রবিরোধী কাজে যুক্ত হতে পারেন এবং তাঁকে আটক না করলে তিনি এলাকার যুবসমাজকে ভুল পথে প্রভাবিত করতে পারেন। কোনো ठोस প্রমাণ ছাড়াই নিছক আশঙ্কার বশবর্তী হয়ে এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
আদালতে শাহের আইনজীবীরা জানান, পুলিশ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে তাঁকে বন্দি করে রেখেছে। উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্টের বিচারপতি রজনেশ ওসওয়াল জন সুরক্ষা আইনের ২২ (৫) ধারায় ওই ব্যক্তির গ্রেফতারিকে সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করেন। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের আনা অভিযোগগুলি পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং মনগড়া।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেখ আবদুল্লা এই জন সুরক্ষা আইন চালু করেছিলেন। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিশেষ অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর প্রতিবাদ আটকাতে এই একই আইনে ওমর আবদুল্লা, ফারুক আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতির মতো হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতাদেরও গৃহবন্দি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মহলে এই আইনের কঠোর বিরোধিতা করা হলেও তা বহাল রয়েছে। এদিকে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হলেও জম্মুর কোর্ট ভালওয়াল জেলে বন্দি শাহকে এখনও মুক্তি দেওয়া হয়নি। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।